তেলঙ্গানার মঞ্চেরিয়ালে প্রায় ১০০ পথ কুকুরকে বিষ খাইয়ে মারার উঠল অভিযোগ। নদীর ধারে কুকুরগুলির দেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। স্থানীয় সরপঞ্চ ও পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

পথকুকুর (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 15 March 2026 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলঙ্গানার (Telangana) মঞ্চেরিয়াল জেলায় (Mancherial district) প্রায় ১০০টি পথকুকুরকে (Stray Dogs) বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার উঠল অভিযোগ। নদীর ধারে একাধিক কুকুরের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাসিন্দারা এবং পশু কল্যাণ সংগঠনগুলি (Animal Welfare Groups)।
দেশের এক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন বলছে, পশু অধিকার কর্মী এ. গৌতম (A. Goutham) এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’র (Stray Animal Foundation of India) ক্রুয়েলটি প্রিভেনশন ম্যানেজার (Cruelty Prevention Manager) হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ, গত ৭ এবং ৮ মার্চের মাঝরাতে কিশতাপুর গ্রামে (Kishtapur village) প্রায় ১০০টি পথকুকুরকে বিষাক্ত ইনজেকশন (Poisonous Injection) দিয়ে মারে কেউ। পরে দেহগুলি নদীর ধারে মাটিচাপা দিয়ে বিষয়টি লুকানোর চেষ্টা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই কাজ করানোর জন্য গ্রামের সরপঞ্চ (Sarpanch) এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সচিব (Gram Panchayat Secretary) নাকি দু’জন ব্যক্তিকে ভাড়া করেছিলেন। তাঁদের নির্দেশেই বিষ প্রয়োগ করে কুকুরগুলোকে মারা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে জান্নারাম থানায় (Jannaram Police Station) মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita বা BNS) এবং ‘প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্টে’র (Prevention of Cruelty to Animals Act) সংশ্লিষ্ট ধারায় সরপঞ্চ ও গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, তেলঙ্গানার বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক মাসে পথকুকুর হত্যার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি এবং গত বছরের ডিসেম্বরেও এমন অভিযোগ ওঠে। জানুয়ারির এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৫০০টি কুকুরকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল, যার জেরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
এছাড়াও চলতি বছরের শুরুতে কামারেড্ডি জেলায় (Kamareddy district) প্রায় ২০০টি কুকুরকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। পশু অধিকার কর্মী গৌতম জানিয়েছিলেন, ভাভানিপেট (Bhavanipet), পালওয়ানচা (Palwancha), ফরিদপেট (Faridpet), ওয়াদি (Wadi) এবং বান্দারামেশ্বরাপল্লি (Bandarameshwarapally) এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্রের খবর, এ ধরনের ঘটনার মোট সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় ১৩০০-এ পৌঁছেছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ডিসেম্বরের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের (Gram Panchayat Elections) আগে কিছু প্রার্থী গ্রামবাসীদের পথকুকুরের সমস্যা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই নাকি এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এখন গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।