বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততার এক অবিশ্বাস্য কাহিনী! চুরি হয়ে যাওয়া ৭টি কুকুর প্রায় ১৭ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে দল বেঁধে নিজেদের গ্রামে ফিরে এল।

ভাইরাল ভিডিও
শেষ আপডেট: 24 March 2026 09:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুরি হয়েছিল। ভাগ্য যেন থমকে গিয়েছিল মাঝপথে। তবু হার মানেনি তারা। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে, দল বেঁধে, একে অপরকে আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত নিজের গ্রামে ফিরল সাতটি কুকুর (7 stolen dogs)—চিনের এই অবিশ্বাস্য কাহিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে আবেগ আর বিস্ময়ের ঢেউ।
চিনের (China) জিলিন প্রদেশের চ্যাংচুন। ১৬ মার্চের সকাল। এক পথচারীর চোখে ধরা পড়ে অদ্ভুত দৃশ্য—হাইওয়ে ধরে এগিয়ে চলেছে সাতটি কুকুর, যেন নিঃশব্দ এক মিছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, মাঝখানে এক আহত জার্মান শেফার্ড। তাকে ঘিরে বাকিরা হাঁটছে, যেন প্রহরীর মতো পাহারা দিচ্ছে। আর সামনে থাকা একটি কর্গি বারবার ফিরে তাকাচ্ছে—সবাই ঠিক আছে তো? কেউ পিছিয়ে পড়ল না তো?
Seven dogs stolen from their owners have gone viral after escaping from an illegal transport truck and making their way home.
They traveled around 17 km together, led by a corgi across highways and fields, now safely back with their respective owners..🐶🐾🥺❤️ pic.twitter.com/H5VB9BQkGB— 𝕐o̴g̴ (@Yoda4ever) March 23, 2026
এই দলটিতে ছিল জার্মান শেফার্ড, গোল্ডেন রিট্রিভার, ল্যাব্রাডর আর পিকিনিজ—সবাই ঘরোয়া পরিবেশে বড় হওয়া কুকুর। তাদের চলন-বলনেই স্পষ্ট, এরা পথকুকুর নয়; বরং একসঙ্গে থাকা, একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠা বন্ধুর দল।
পরে স্থানীয় একটি পশু-সুরক্ষা সংস্থা জানায়, কুকুরগুলো একই গ্রামের, আর তাদের মধ্যে ছিল গভীর বন্ধন। অভিযোগ উঠেছে, একটি ডগ মিট দোকানের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীরাই তাদের চুরি করেছিল। সেখান থেকেই কোনওভাবে পালিয়ে যায় তারা। যদিও এই দাবি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
কিন্তু যা নিশ্চিত—তা হল তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ঝড় ওঠে। ইতিমধ্যেই ২৩ কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে সেই দৃশ্য। বহু মানুষ একে বলছেন ‘বন্ধুত্ব, বিশ্বস্ততা আর সাহসের বিরল উদাহরণ’।
এরপর শুরু হয় খোঁজ। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা ড্রোন উড়িয়ে খুঁজতে থাকেন তাদের। শেষ পর্যন্ত জানা যায়, তারা সত্যিই পৌঁছে গেছে নিজেদের গ্রামে। তিনটি আলাদা পরিবারের হলেও সাতটি কুকুরই নিরাপদে ফিরেছে নিজের ঘরে।
এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে এক কঠিন বাস্তব—চিনে এখনও কুকুরের মাংস খাওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। ফলে প্রাণী সুরক্ষা আইন আরও কঠোর করার দাবি উঠছে জোরালোভাবে।
তবে সব বিতর্কের মাঝেও এই গল্প যেন একটাই কথা বলে—বন্ধুত্ব, সাহস আর ঘরে ফেরার টানকে হারানো যায় না।