মোনালিসার চোখের কোণে চর্বির স্পষ্ট ছাপ। এমনটা দেখেই হাই কোলেস্টেরলের ইঙ্গিত মিলেছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

দ্য ভিঞ্চির মোনালিসা।
শেষ আপডেট: 9 February 2026 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল হাই কোলেস্টেরল (High Cholesterol) নিয়ে কে না ভুগছেন! কিন্তু তা নিয়ে মন খারাপ করবেন না। কারণ জানা যাচ্ছে, দুনিয়াকাঁপানো পেন্টিংয়ের চরিত্র খোদ মোনালিসারও (Mona Lisa) নাকি ছিল এই সমস্যা!
দ্য ভিঞ্চির আঁকা ‘মোনালিসা’র হাসি নিয়ে কত না কল্পনা ও জল্পনা যুগ যুগ ধরে। কিন্তু এ রহস্যময় হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও এক গভীর ইঙ্গিত। দেড় দশক আগে যে কথা সামনে আনেন এক ইতালীয় বিশেষজ্ঞ। সেই নিয়েই ফের আলোচনা শুরু হয়েছে, ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের চিকিৎসকের মন্তব্যের পর।
কার্ডিওলজিস্ট লেসলি চো বলেন, "আমায় অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, মোনালিসার এই কোলেস্টেরলের ছাপ কি কোনও নতুন বিষয়? আমি বলি, একেবারেই না। ছবিটিতে সেই শুরুর সময় থেকেই এই হাই কোলেস্টেরলের ছাপ স্পষ্ট। ১৬ শতকেও মানুষের কোলেস্টেরলের সমস্যা ছিল।"
Did Mona Lisa have high cholesterol?
See the signs in her famous portrait.#LoveYourHeart ❤️ pic.twitter.com/7gH9aJodvG— Cleveland Clinic (@ClevelandClinic) February 6, 2026
কেন এমন মনে হল? কারণ হিসেবে উঠে এসেছে একটি বিশেষ লক্ষণ—‘জ্যানথেলাজমা’। এটি মূলত চোখের আশপাশে ত্বকের নিচে হলদেটে রঙের চর্বির জমাট স্তর, যা সাধারণত শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে দেখা যায়।
ইতালির পালের্মো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিটো ফ্রাঙ্কো দাবি করেছিলেন, মোনালিসার বাঁ চোখের নীচে এমনই এক ধরনের হলদেটে চর্বির স্তরের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়। তাঁর মতে, এই লক্ষণ থেকেই অনুমান করা যায় যে ছবিটির মডেলের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল।
শুধু তাই নয়, অধ্যাপক ফ্রাঙ্কো আরও দাবি করেছিলেন, মোনালিসার ছবিতে আরও বিভিন্ন ধরনের রোগের ইঙ্গিত ধরা পড়ে। হাড়ের গঠনগত বিকৃতি থেকে শুরু করে কিডনিতে পাথরের সম্ভাব্য লক্ষণ পর্যন্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই শিল্পকর্মে একাধিক শারীরিক সমস্যার ছাপ লুকিয়ে থাকতে পারে।
২০১০ সালে অধ্যাপক ফ্রাঙ্কো ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রায় দু'বছর আগে থেকেই তিনি শিল্পকর্মে রোগব্যাধির চিহ্ন খোঁজার কাজ শুরু করেছেন। সেই করতে গিয়েই তাঁর নজর কাড়ে ১৬ শতকে ভিঞ্চির এই অয়েল পেন্টিং।
ফ্রাঙ্কো বলেন, “আমি শিল্পকে দেখি শিল্পসমালোচকের চোখে নয়, একজন চিকিৎসাবিদের চোখে। ঠিক যেমন একজন গণিতবিদ সঙ্গীত শোনেন সঙ্গীত সমালোচকের থেকে একেবারে আলাদা ভাবে।”
অধ্যাপক ফ্রাঙ্কোর কথায়, তিনি প্রাচীন মিশরের ভাস্কর্য থেকে শুরু করে আধুনিক চিত্রকলা পর্যন্ত প্রায় ১০০টি শিল্পকর্ম বিশ্লেষণ করেছেন। তবে তাঁর মূল আগ্রহ ছিল ‘ওল্ড মাস্টার্স’ বা প্রাচীন যুগের বিখ্যাত শিল্পীদের কাজের দিকে। তাঁর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শুধু রাজকীয় বা অভিজাত চরিত্রই নয়—ম্যাডোনা, দেবদূত এমনকি পৌরাণিক বীরদের ছবিতেও নানা ধরনের রোগের লক্ষণ ধরা পড়ে।
তিনি আরও একটি চমকপ্রদ উদাহরণ তুলে ধরেন—মাইকেলেঞ্জেলোর নিজেরই অসুস্থতার চিহ্ন দেখা যায় রাফায়েলের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘স্কুল অব এথেন্স’-এ। সেখানে মাইকেলেঞ্জেলোর হাঁটু অস্বাভাবিকভাবে ফুলে রয়েছে বলে মনে হয়। অধ্যাপক ফ্রাঙ্কোর মতে, এটি কিডনিতে পাথরের লক্ষণ হতে পারে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মাইকেলেঞ্জেলো নিজেও চিঠিপত্রে কিডনি ও মূত্রাশয়ের সমস্যার কথা লিখেছিলেন এবং সম্ভবত তিনি গাউট রোগেও ভুগতেন।
সব মিলিয়ে, অধ্যাপক ফ্রাঙ্কোর এই গবেষণা দেখাচ্ছে—শিল্পকর্ম শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ নয়, অনেক সময় তা হয়ে উঠতে পারে অতীতের মানুষের শরীরী অসুখ-বিসুখের নীরব দলিলও। মোনালিসাও তেমনই একজন!