বয়স অনুযায়ী আদর্শ হার্ট রেট কত, ব্যায়াম বা হাঁটার সময় হার্টবিট কত বাড়তে পারে, চিকিৎসক কী পরামর্শ দেন—জানুন সহজ ভাষায়।

শেষ আপডেট: 22 January 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের হৃদয় (Heart) দিনে প্রায় এক লাখ বার স্পন্দিত হয়। এই হৃদস্পন্দনের গতি, অর্থাৎ হৃদয়ের প্রতি মিনিটে কতবার ধুকপুক করছে সেটাই হার্ট রেট (Heart Rate) হিসেবে ধরা হয়। কেউ চুপচাপ বসে থাকলে যেমন হার্ট রেট কম থাকে, তেমনই ব্যায়াম, দৌড়, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা মানসিক চাপের সময়ে তা বাড়ে। তবে প্রশ্ন হল— কতটা থাকলে তা ভাল, আর কতটা কমলে বা বাড়লে বিপদ?
সর্বোচ্চ হার্ট রেট কীভাবে হিসেব করা হয়
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি সাধারণ সূত্রের সাহায্যে সর্বোচ্চ হার্ট রেট বের করা হয়: সর্বোচ্চ হার্ট রেট=২২০ – আপনার বয়স।
উদাহরণস্বরূপ, কারও বয়স ৩০ হলে তাঁর সর্বোচ্চ হার্ট রেট হবে ১৯০ BPM (beats per minute)। এই মানের কাছে হার্ট রেট পৌঁছলে হৃদয় সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে বলে ধরা যায়। তথ্য অনুযায়ী, বয়সভিত্তিক হিসেব দাঁড়ায়: ২০ বছরে সর্বোচ্চ ২০০, ৩০ বছরে সর্বোচ্চ ১৯০, ৫০ বছরে সর্বোচ্চ ১৭০ আবার ৭০ বছরে সর্বোচ্চ ১৫০। এই মানগুলি আন্তর্জাতিক কার্ডিওলজি গাইডলাইন অনুযায়ী গৃহীত।
আদর্শ হার্ট রেট
হিসেব অনুযায়ী হার্টরেটের একটা সর্বোচ্চ মান থাকলেও, সবসময় হার্টকে সেখানে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়। তাই চিকিৎসকেরা বলেন টার্গেট হার্ট রেট জোনের কথা। অর্থাৎ সর্বোচ্চের ৩০% থেকে ৮৫%-এর মধ্যে হার্ট রেট থাকলে তা নিরাপদ ও কার্যকর।
উদাহরণ— ৩০ বছর বয়সে টার্গেট জোন: ৫৭ থেকে ১৬২ BPM, ৫০ বছর বয়সে টার্গেট জোন: ৫১ থেকে ১৪৫ BPM.
এই জোনে থাকলে হাঁটা, দৌড় বা সাইক্লিংয়ে শরীর ফ্যাট বার্ন করে, কার্ডিওভাস্কুলার ফাংশন বাড়ে এবং হার্ট মাংসপেশি শক্ত হয়।
কখন বাড়তি সতর্কতা দরকার?
তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যায়ামের সময় হার্ট রেট অতিরিক্ত বাড়তে পারে বা খুব কম থাকতে পারে। বিশেষত— ধূমপায়ী, ডায়াবেটিস রোগী, উচ্চ রক্তচাপ, ওবেসিটি, থাইরয়েড সমস্যা, পূর্বের কার্ডিয়াক ইতিহাস থাকলে। এইসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে হার্ট রেট মনিটরিং ও ধাপে ধাপে ব্যায়াম শুরু করা উচিত।
হার্ট রেট শুধু সংখ্যা নয়, এটা হার্টের ভাষা
হার্ট রেট বোঝা মানে নিজের শরীরকেও বোঝা। এভাবে অনেকেই ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি বা অ্যারিদমিয়ার আগাম সংকেত ধরতে পারেন। স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ড এইসবের মাধ্যমে নজরদারি আরও সহজ করে দিয়েছে আজকাল।