দ্য ওয়াল আরোগ্য-র পডকাস্টে ডিম এবং ডিমের কুসুমের ভালমন্দের (egg yolk misconception) প্রসঙ্গ উঠলে ডাঃ মিত্র সরাসরি বলেন, ডিমের কুসুম মানেই খারাপ - এই চিরাচরিত ধারণাই ভুল।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্লাড টেস্টের রিপোর্ট বলছে কোলেস্টেরল (high cholesterol) বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। প্রেশার (blood pressure) মাপলে তো কথাই নেই! হার্ট ভাল রাখার (heart health) চিন্তায় ঘুম ওড়ার জোগাড়। কী খাব আর কী খাব না, সবকিছুতেই একটা বাধানিষেধ (heart health friendly diet)। সেই কোপ সবার আগে পড়ে তুলনামূলক 'সস্তার প্রোটিন' ডিমের ওপর (egg benefits for heart health)।
ডিম যে খাব, কোলেস্টেরল আর ব্লাডপ্রেশারের চোখরাঙানিতে প্রিয় অংশ কুসুমটিই তো বাদ দিতে হবে (egg effects on cholesterol and bloood pressure)! কিন্তু ডিমের কুসুম খাওয়ার সঙ্গে এই কোলেস্টেরল আর ব্লাডপ্রেশার বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক ঠিক কী, এখানে কুসুম-ই কি ভিলেন (does egg yolk rise cholesterol and blood pressure) - এই সংক্রান্ত নানা ধারণাকে ভেঙে গোটা বিষয়টা বুঝিয়ে বললেন ডায়াবেটোলজিস্ট ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডক্টর আশিস মিত্র।
দ্য ওয়াল আরোগ্য-র পডকাস্টে (The Wall Arogya Podcast) ডিম এবং ডিমের কুসুমের ভালমন্দের প্রসঙ্গ উঠলে ডাঃ মিত্র সরাসরি বলেন, ডিমের কুসুম মানেই খারাপ - এই চিরাচরিত ধারণাই ভুল (egg yolk health benefits misconception)।
প্রশ্ন ছিল, ডিমের কুসুম নিয়ে এটা অনেকের ধারণা (egg yolk misconception)। কোলেস্টেরল মানেই কি কুসুম (cholesterol and egg yolk) আগেভাগে বাদ দিতে হবে? ডাক্তারবাবুর কথায়, ''অনেকে ভাবেন কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে। ডিমের কুসুমে কিন্তু 'কোলেস্টেরল' বাড়ে না। বরং HDL বাড়ে, যেটাকে বলে ভাল কোলেস্টেরল (egg yolk and good cholesterol)।''
এবার এখানে একটু বুঝিয়ে বলা দরকার - কোলেস্টেরল মানেই কি খারাপ? কোনটা ভাল, কোনটাই বা খারাপ কোলেস্টেরল (good cholesterol and bad cholesterol)?
কোলেস্টেরল আসলে এক ধরনের ফ্যাটজাতীয় উপাদান যা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের রক্তে থাকে। এটি ছাড়া মানবশরীর অসম্পূর্ণ। হরমোন তৈরি, কোষ গঠনে এবং হজমে সহায়তাকারী উপাদান তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে কোলেস্টেরলেরও দু’টি ধরন রয়েছে - একটা ভাল, একটা খারাপ। ভালটা দরকারি, খারাপটা বিপজ্জনক।
HDL বা ‘ভাল কোলেস্টেরল’ শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে লিভারে পৌঁছে দেয়, যেখানে তা ভেঙে যায় বা বেরিয়ে যায়। এই কোলেস্টেরল হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়। LDL বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ রক্তনালিতে জমে গিয়ে ধমনিতে ব্লকেজ তৈরি করতে পারে, যা হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
কোলেস্টেরল তো হল, কিন্তু ব্লাডপ্রেশারের ক্ষেত্রেও কি ভিলেন এখানে সেই ডিম-ই (cholesterol and blood pressure)? ডাঃ মিত্র এখানেও একটা ভুল ধারণা ভাঙিয়ে দিয়ে বলেন, ডিম সেদ্ধ কীভাবে খাওয়া হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করছে ব্লাড প্রেশারের ওঠানামা। তিনি জানান, ''ডিম সেদ্ধ (boiled egg) খেলে কিন্তু ব্লাড প্রেশার বাড়ে না, নুন দিয়ে খাওয়া হলে বাড়তে পারে।'' অর্থাৎ, ডিমের কুসুম নয়, বরং ডিম সেদ্ধতে নুন ছড়িয়ে খাওয়াই ডেকে আনছে বিপদ। আর নুন, বিশেষ করে কাঁচা নুন যে ব্লাড প্রেশার বাড়ায়, সেকথা যে কোনও স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে অজানা নয়।
তাহলে ডিম সেদ্ধ খাওয়ার মজাটাই কি মাটি?
ডাক্তারবাবুর সাজেশন (doctor advice), ''শুধু গোল মরিচের গুঁড়ো দিয়েই খেতে পারেন।''
হার্ট সম্পর্কিত যে কোনও রকম সমস্যা দেখা দিলেই 'ডিম খাব কি খাব না', সেই নিয়ে একটা বিশাল দ্বন্দ্ব কাজ করে অনেকের মনে, তা যে একেবারেই ভ্রান্ত - সেটাই আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন ডায়াবেটোলজিস্ট ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডক্টর আশিস মিত্র।
ডিম খান, তবে শরীরের কথাও শুনুন। পরিমাণ মেপে আর নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলে কোনও সমস্যাই আসলে তত বড় সমস্যা নয়। প্রয়োজন মনে হলে বা যে কোনও রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে, ফেলে না রেখে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।