আজ, বুধবার, বিশ্ব ক্যানসার দিবস (World Cancer Day) উপলক্ষে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বে যত নতুন ক্যানসারের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় ৩৭ শতাংশ বা ৭.১ মিলিয়ন রোগ সরাসরি প্রতিরোধযোগ্য কারণের সঙ্গে যুক্ত।

বিশ্বে ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ এখনও তামাক (tobacco)— যা একাই ১৫% ক্যানসারের জন্য দায়ী।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে ১০টি ক্যানসার আক্রান্তের ঘটনার মধ্যে অন্তত ৪টিই (40%) প্রতিরোধযোগ্য বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও তাদের গবেষণা শাখা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (IARC)। আজ, বুধবার, বিশ্ব ক্যানসার দিবস (World Cancer Day) উপলক্ষে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বে যত নতুন ক্যানসারের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় ৩৭ শতাংশ বা ৭.১ মিলিয়ন রোগ সরাসরি প্রতিরোধযোগ্য কারণের সঙ্গে যুক্ত।
গবেষণাটি ১৮৫টি দেশ ও ৩৬ ধরনের ক্যানসারের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। এতে মোট ৩০টি প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে তামাক (tobacco), মদ্যপান (alcohol), অতিরিক্ত ওজন (high body mass index), শরীরচর্চার অভাব (physical inactivity), বায়ুদূষণ (air pollution), অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet radiation) এবং প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৯টি ক্যানসার-সৃষ্টিকারী সংক্রমণ।
গবেষণা অনুযায়ী, ভারতে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে প্রায় ৩৭.১ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য, যার সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ ২০ হাজার।
ভারতে ক্যানসারের প্রধান নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণগুলি হল:
সংক্রমণ (Infections) – ১৩.৪%
ধূমপান (Tobacco smoking)– ১০.৫%
খৈনি, গুটখা, সুপারি (Smokeless tobacco & areca nut) – ৫%
ভারতে পুরুষদের মধ্যে ৪৪.৭ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য (প্রায় ৩ লক্ষ ৫ হাজার কেস)। প্রধান কারণ:
ধূমপান – ১৮.৫%
ধোঁয়াহীন তামাক ও সুপারি – ৭.৭%
সংক্রমণ – ৭.৬%
পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসার:
মুখ ও ঠোঁটের ক্যানসার (Oral cancer) – ৮৫,০০০+ কেস
ফুসফুস (Lung cancer)– ৪৫,০০০+ কেস
পাকস্থলী (Stomach cancer) – ৩১,০০০+ কেস
মহিলাদের মধ্যে ৩০.৫ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য (প্রায় ২ লক্ষ ১৮ হাজার কেস)। প্রধান কারণ:
সংক্রমণ– ২০.২%
শরীরচর্চার অভাব– ২.৭%
ধোঁয়াহীন তামাক ও সুপারি– ২.৪%
মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসার:
জরায়ুমুখ (Cervical cancer)– ১,২৭,০০০+ কেস (HPV ভাইরাসের কারণে)
স্তন (Breast cancer)– ২৫,০০০+ কেস
মুখ (Oral cancer)– ২০,০০০+ কেস
IARC-র মতে, ভারতে সংক্রমণজনিত ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক দুটি হল:
জরায়ুমুখের ক্যানসার (HPV ভাইরাস)
পাকস্থলীর ক্যানসার (H. pylori ব্যাকটেরিয়া)
বিশেষজ্ঞ ডাঃ পার্থ বসু বলেন, HPV ভ্যাকসিন চালু করতে দেরি মানে হাজার হাজার কিশোরীকে ভবিষ্যতের ক্যানসারের দিকে ঠেলে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, পানীয় জলের অভাব ও অপরিষ্কার জায়গায় খাবার রাখার কারণে দেশে পাকস্থলীর ক্যানসার বাড়ছে, যা গভীর উদ্বেগের।
WHO–র ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান Dr Andre Ilbawi বলেন, এই গবেষণা সরকার ও সাধারণ মানুষকে দেখাচ্ছে কীভাবে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব। IARC-র ডেপুটি প্রধান জানান, এই প্রথম সংক্রমণকে ক্যানসারের মূল কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করা হল।
বিশ্বে ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ এখনও তামাক (tobacco)— যা একাই ১৫% ক্যানসারের জন্য দায়ী। ভারতে সরকার কর বাড়ালেও (bidi) বিড়ি ও অবৈধ তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতা তাই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে।