Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

২০০ কেজির যুবকের জীবন প্রায় থামতে বসেছিল স্ট্রোকে, বেরিয়াট্রিক সার্জারি ফেরাল স্কাই ডাইভিংয়ে

অতিরিক্ত ওজন, একাধিক রোগ থেকে স্কাই ডাইভিং! বেরিয়াট্রিক সার্জারির (Bariatric Surgery) মাধ্যমে ওজন কমিয়ে (weight loss surgery) নতুন জীবন শুরু উইল গ্রান্টের।

২০০ কেজির যুবকের জীবন প্রায় থামতে বসেছিল স্ট্রোকে, বেরিয়াট্রিক সার্জারি ফেরাল স্কাই ডাইভিংয়ে

১০০ কেজি ওজন কমিয়ে স্কাই ডাইভিং!

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 27 January 2026 14:59

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখটা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না আমেরিকার ওহাইওর বাসিন্দা উইল গ্রান্ট (Will Grant)। প্রায় ২০০ কেজি ওজন (Overweight) নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় বিছানায় শুয়ে ছিলেন তিনি। রক্তচাপ (Blood Pressure) বেড়ে হয়েছিল ২৫৫/১২৩। স্ট্রোক (Stroke)। সেই থেকে সেরে উঠলেও, এই সংখ্যাগুলো আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে।

তবে এই অতীত পার করে আজ তিনি ডানা মেলেছেন আকাশে। হাসপাতালের বিছানা থেকে পাড়ি দিয়েছেন স্কাইডাইভিংয়ে (Sky Diving)।

মোড় ঘোরায় মৃত্যুর ভয়

ওহাইওর ইয়াংস্টাউনের বাসিন্দা উইল গ্রান্ট বলেন, “আমার ডাক্তার সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছিলেন— এভাবে চললে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে আমার শরীরে আরও বড় স্ট্রোক হবে, আমি মারা যেতে পারি। তাঁর সেই কথাটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।” 

দীর্ঘদিন ধরে ওঠানামার মধ্যে দিয়ে গেলেও ওজন কমানোর (Weight Loss Journey) চেষ্টা তাঁকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারেনি। তিন বছর চেষ্টার পরেও যখন তিনি যথেষ্ট ওজন কমাতে পারছিলেন না, তখনই তিনি বুঝে যান, আরও বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে (weight loss surgery)। সেখান থেকেই বেরিয়াট্রিক সার্জারির (Bariatric Surgery) কথা ভাবা শুরু।

বেরিয়াট্রিক সার্জারির (Bariatric Surgery) পথে হাঁটা

এর পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস। তখন ওজন ১৬৫ কেজি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় তিনি ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের (Cleveland Clinic) বেরিয়াট্রিক অ্যান্ড মেটাবলিক ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিস্তারিত জানান। এরপর শুরু হয় ওজন কমানোর অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত কিনা, তা যাচাই করার দীর্ঘ প্রক্রিয়া। বেরিয়াট্রিক সার্জন, ডায়েটিশিয়ান, চিকিৎসক ও মনোবিদ— সকলকে নিয়ে একটা বোর্ড গড়ে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল।

বেরিয়াট্রিক সার্জন ডক্টর রিকার্ড করসেলেস জানান, উইলের বিএমআই ছিল ৪৫। পাশাপাশি তাঁর একাধিক স্থূলতা-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল, যেমন, উচ্চ রক্তচাপ, স্লিপ অ্যাপনিয়া, সিস্টেমিক অ্যাসিড রিফ্লাক্স, হাইপারলিপিডেমিয়া মেটাবলিক সিনড্রোম। এই সবকিছু মিলিয়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ছিল মারাত্মকভাবে বেশি।

বেরিয়াট্রিক সার্জারি (Bariatric Surgery) কী?

বেরিয়াট্রিক সার্জারি (Bariatric Surgery) হল স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন কমানোর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যা মূলত তখনই করা হয়, যখন ডায়েট, ব্যায়াম বা ওষুধে দীর্ঘদিনেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলির আকার ছোট করা হয় বা খাবার হজমের পথ কিছুটা বদলে দেওয়া হয়, যাতে কম খাবারেই তৃপ্তি আসে এবং শরীরে ক্যালোরি শোষণও কম হয়। ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করে। সাধারণত যাঁদের বিএমআই ৩৫ বা তার বেশি এবং যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সার্জারির কথা ভাবা হয়।

এই সার্জারির সবচেয়ে বড় সুবিধা শুধু ওজন কমানো নয়, বরং স্থূলতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমানো। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই বেরিয়াট্রিক সার্জারির পর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমে এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যারও উন্নতি হয়। তবে এটি কোনও ‘সহজ রাস্তা’ নয়। সার্জারির পর নিয়ম মেনে খাওয়া, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের ফলো-আপ অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পরামর্শ ও যত্নে বেরিয়াট্রিক সার্জারি বহু মানুষের জীবনে নতুন করে সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেয়।

রোবোটিক্সে ছোট হল পাকস্থলি 

সমস্ত রিপোর্ট ও শারীরিক অবস্থার মূল্যায়নের পর চিকিৎসক দল সিদ্ধান্ত নেয়, উইল রোবোটিক রু-এন-ওয়াই গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারির জন্য উপযুক্ত। এই অস্ত্রোপচারে পাকস্থলির আকার ছোট করে একটি পাউচ তৈরি করা হয় এবং পাকস্থলির অংশ ও ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ ডুওডেনামকে নতুনভাবে সংযুক্ত করা হয়। রোবোটিক প্রযুক্তির ফলে রোগীর ব্যথা কম হয় এবং সার্জারিও অনেক নিখুঁত এ নির্ভুল হয়।

অস্ত্রোপচারের আগে থেকেই উইল ডায়েটিশিয়ান ও মনোবিদদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছিলেন। তিনি জানতেন, তাঁর পাকস্থলি ছোট হয়ে একটা ডিমের মতো সাইজের হয়ে যাবে, শরীর বদলাবে, জীবনযাপন পুরোপুরি পাল্টে যাবে। 

২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন উইল। সেদিনই ডক্টর করসেলেস তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। প্রায় দু'ঘণ্টার অপারেশনের পর প্রথমদিকে কিছুটা ব্যথা থাকলেও, দু’দিনের মধ্যেই তিনি বাড়ি ফিরে যান।

জীবন বদলের শুরু

শুরুর দিকে তরল খাবার দিয়ে শুরু হয় তাঁর ডায়েট। ধীরে ধীরে যুক্ত হয় লিন প্রোটিন, ডাল, শাকসবজি ও ফল। পরে আসে জটিল কার্বোহাইড্রেট। এই খাদ্যাভ্যাস তাঁর আগের জীবনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। উইল বলেন, “ছোট ছোট ধাপে শরীরকে মানিয়ে নিতে হয়েছে।” এখন তিনি অল্প খাবার খেয়ে সময়মতো থেমে যেতে পারেন, এমনকি প্লেটে খাবার রেখে উঠেও যেতে পারেন, যা একসময় ভাবাই যেত না।

অস্ত্রোপচারের এক মাস পর ক্লিনিকের নিয়ম মেনে আবার পরীক্ষা করা হয়। তখনই দেখা যায়, উইল কিলো দশেক ওজন কমিয়েছেন, অ্যাসিড রিফ্লাক্স পুরোপুরি চলে গেছে। মাল্টিভিটামিন শুরু হয়। ধীরে ধীরে স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপ্যাপ মেশিনের প্রয়োজন ফুরোয়। রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের ওষুধও বন্ধ করা যায়।

Will Grant before (left) and after (right) weight loss

এই সাফল্যের পেছনে চিকিৎসকদের পাশাপাশি উইল কৃতিত্ব দেন তাঁর প্রয়াত মাকে ও তাঁর বান্ধবীকে। উইলের মা মাত্র ৫২ বছর বয়সে মারা যান। উইল বলেন, “মাকে আমি পেয়েছিলাম ২৯ বছর, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। আজও মায়ের কথা ভেবেই এগিয়ে চলি। আর গার্লফ্রেন্ডের সাপোর্ট ছাড়া এই পথ হাঁটতে পারতাম না।”

আকাশে ওড়ার ডানা (Skydiving)

ওজন কমার পর উইল যে শুধু সুস্থ হয়েছেন তাই নয়, তিনি নিজের ছোটবেলার স্বপ্নও পূরণ করতে পেরেছেন। ১৪০ কেজির নীচে ওজন আসতেই তিনি স্কাইডাইভিং করার অনুমতি পান। অগাস্ট মাসে জীবনের প্রথম স্কাইডাইভ করেন তিনি, যা এখন তিনি প্রতিবছরই করবেন বলে ঠিক করেছেন।

নতুন বছর, ২০২৬ সালে উইলের ওজন এসে দাঁড়িয়েছে ১০০ কেজিতে। অর্থাৎ আগের ওজনের অর্ধেক। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য— আসন্ন গ্রীষ্মের ম্যারাথন দৌড়ানো। উইল বলেন, “এত বেশি ওজনের শরীরটা সবকিছুর উপর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি আর সেই সীমাবদ্ধতায় ফিরতে চাই না।”


```