শাশ্বতী বোঝালেন, শুধু ডায়েট করলেই হল না। ডায়েট বা খাদ্যতালিকা যদি সঠিক না হয়, তাহলে কিন্তু ওজন কখনওই কমবে না। আর এখানেই দরকার বিশেষজ্ঞের সঠিক গাইডেন্স।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 6 January 2026 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৮ মাসে কমেছে ৪৫ কেজি ওজন (huge weight loss transformation)! তাও কোনও সাপ্লিমেন্টস (weight loss suppliment) বা ওষুধ (weight loss medicine) ছাড়াই। খুব 'হাই-ফাই' কোনও ডায়েট (weight loss diet) নয়, বাড়ির 'হেলদি-টেস্টি' খাবারেই বাজিমাত সম্ভব, দেখিয়ে দিয়েছেন ২৮ বছরের বাঙালি বধূ মৌমিতা দাস (Moumita Das weight loss journey)। আর এই আমূল বদলের নেপথ্যে রয়েছেন ডায়েটিশিয়ান শাশ্বতী পাল সাহা (Dietitian Saswati Paul Saha)।
ওজন কমানো মানেই যে এক্সারসাইজ (exercise) নয় এবং তার থেকেও বড় কথা - নিয়ম মেনে বাড়ির খাবার খেয়েও (home cooked food diet for weight loss) নিজেকে ছিপছিপে এবং রোগমুক্ত রাখা সম্ভব। কিন্তু কীভাবে এই ম্যাজিক (weight loss journey magic tricks by dietitian), সেটাই বুঝিয়ে বললেন শাশ্বতী।

নতুন বছর শুরু হয়ে গিয়েছে মানেই অনেকের কাছে নতুন রেজোলিউশন (new year resolution) - ওজন কমাতে হবে, ছিপছিপে হতে হবে। তার জন্য কেউ কেউ স্ট্রিক্ট এক্সারসাইজ (strict exercise routine) শুরু করেন। আবার অনেকের কাছে আরও 'সহজ উপায়' হল ক্র্যাশ ডায়েট (crash diet) - সোজা অর্থ হল রীতিমতো না খেয়ে ওজন কমানো, যার হাজার একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে - কিন্তু তা নিয়ে অনেকেই খুব একটা ভাবেন না।
ডায়েটিশয়ান শাশ্বতী পাল সাহা জানান, ''মৌমিতা প্রথম যখন আসেন, ওঁর ওজন ছিল ৯৬ কেজি। পাশাপাশি প্রচুর সমস্যাও ছিল। সাপ্লিমেন্ট, ডায়েটের মতো ওজন কমানোর অনেকরকম চেষ্টা করেও ফল মেলেনি। এক-দু'কেজি কমলেও পরে আবার বেড়েছে।'' শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক ডায়েট (proper diet for weight loss) এবং পাশাপাশি গাইডেন্স যদি থাকে, তাহলে এই অসাধ্য সাধন করাও সম্ভব, এটাই বারবার মনে করালেন ডায়েটিশয়ান শাশ্বতী।

অনেকের কাছেই এটা একটা বড় চিন্তার বিষয় যে, বাড়ির দায়িত্ব, অফিস ডেডলাইনের চাপ - সব মিলিয়ে ডায়েট কি মেইনটেইন করা সম্ভব? ঠিক এখানেই শাশ্বতী জোর দিয়ে বলেন যে, বাড়ির ছোট্ট সদস্যটিকে সামলে, বাকি সব দায়িত্ব সামলেও নিজের খেয়াল রাখা যায়, ডায়েট করা যায় - মৌমিতা-ই তার প্রমাণ।
অনেকেই একটা সমস্যায় প্রায়ই ভোগেন - ওজন যদিও বা কমে, কিছুদিন পরে তা আবার ফিরে আসে। এই ক্র্যাশ ডায়েটের যুগে যেখানে চটজলদি ফল পাওয়াটাই বড় হয়ে উঠেছে, সেখানে আরও একটা কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ডায়েটিশিয়ান। শাশ্বতীর কথায়, ''মৌমিতা প্রায় দু'বছর আগে ওজন কমিয়েছিলেন। সেই ওজন কিন্তু এখনও তাঁর পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।'' শাশ্বতী একে বলছেন 'সাসটেইনেবল ওয়েট লস' (sustainable weight loss)।

কী এই 'সাসটেইনেবল ওয়েট লস'?
শাশ্বতী বুঝিয়ে বলেন, ''সঠিক চার্ট ফলো করে, নিয়ম মেনে ওজন কমেছে, তাই তা ধরে রাখাও সম্ভব হয়েছে। মৌমিতার এই ওয়েট লসের জার্নিতে তাই কমিয়ে ফেলা ওজন পরে কখনওই বাড়েনি।'
ওজন কমানো মানে তা শুধুই শারীরিক পরিবর্তন নয় (weight loss: not only physical tranformation)
ডায়েটিশিয়ান আরও বলেন, ''ওজন কমানোর এই জার্নিতে যে মৌমিতার শুধু শারীরিক পরিবর্তন হয়েছে, তা নয়। মানসিক পরিবর্তনেরও এখানে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, হীনম্মন্যতার জীবন থেকেও বেরিয়ে আসতে পারা সম্ভব হয়েছে।''
আগের ও পরের ছবি দেখে মেলানো দায় (weight loss before and after)
অনেকটা ওজন কমানোর পর শরীরে আরও কিছু চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে। আগের আর পরের ছবি দেখে মেলানো একপ্রকার অসম্ভব মনে হতে পারে - যেমনটা হয়েছে মৌমিতার ক্ষেত্রে, বলছেন শাশ্বতী। তার কথায়, ''শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক ডায়েট চার্ট ফলো করলে শুধু যে ওজন কমে, তা নয়। তার পাশাপাশি ত্বক-চুলেরও অনেক পরিবর্তন আসে। তাই মৌমিতার আগের ও পরের ছবি দেখলে অনেকেই হয়তো ভাববেন, দু'জন যে একই মানুষ সেটা বুঝে ওঠাই দায় (weight loss before and after changes)। এ তো আকাশ-পাতাল তফাৎ।'' আর এখানেই একটা বড় ভূমিকা রয়েছে, 'কাস্টমাইজড ডায়েট চার্ট এবং গাইডেন্সের' (customized diet chart and proper guidance)।

কেন 'কাস্টমাইজড ডায়েট চার্ট এবং গাইডেন্সের' ওপর জোর দিচ্ছেন ডায়েটিশিয়ান?
শাশ্বতী বোঝালেন, শুধু ডায়েট করলেই হল না। ডায়েট বা খাদ্যতালিকা যদি সঠিক না হয়, তাহলে কিন্তু ওজন কখনওই কমবে না। আর এখানেই দরকার বিশেষজ্ঞের সঠিক গাইডেন্স। তাঁর পরামর্শেই বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম মেনে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী 'কাস্টমাইজড ডায়েট চার্ট' দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, ''প্রতিটা মানুষের জীবনযাত্রা আলাদা। পরিস্থিতির সঙ্গে শরীর নানারকম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। সেই অনুযায়ী ডায়েট চার্টও পাল্টাতে থাকে। সেটাও এই সামগ্রিক ওজন কমানোর জার্নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।''
ওজন কমানোর জন্য যে ভুল ধারণা সবচেয়ে আগে ভাঙা দরকার (weight loss journey myth)
ডায়েটিশিয়ান বারবার মনে করালেন, ''অনেক মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা এখনও রয়েছে যে, ওজন কমানোর জন্য শুধু এক্সারসাইজ করতে হয়। ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টস খাওয়াও সেই ভ্রান্ত ধারণার বড় একটা অংশ জুড়ে রয়েছে। এখানে কিন্তু কোনও সত্যতা নেই।''

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মানসিক ভূমিকা ঠিক কতটা? (weight loss and mental health)
বাড়তে থাকা ওজন যে শুধু শরীরে নানা সমস্যা ডেকে আনে তাই নয়, মনের ওপরও ব্যাপক চাপ ফেলে। অনেকের কাছে ওজন কমানোর একটা বড় বাধা হল মনের জোর, আর ওজন কমানোর প্রবল ইচ্ছা। শাশ্বতী বলেন, ''ডায়েট তো বটেই, তার সঙ্গে যা না বললেই নয়, সেটা হল মৌমিতার চেষ্টা। যেটা ছাড়া কোনও ডায়েট বা ওয়েট লস জার্নি-ই সম্পূর্ণ নয়।''
ডায়েটিশিয়ানের শেষ কথা, ''নিজের ইচ্ছা তো এই বিশেষ জার্নিতে একটা বড় অংশ। ওজন কমিয়ে নিজেকে নিজের মনের মতো জায়গায় নিয়ে যেতে পারার জন্য যে কঠিন ইচ্ছা বা মনোবল দরকার হয়, সেখানেই অনেকে পিছিয়ে পড়েন। যাঁরা সেই জায়গাটা জয় করতে উঠতে পারেন, তাঁরা নিশ্চয় এই জার্নিতে সাফল্য পাবেন।'' আর মৌমিতা যে তার বড় উদাহরণ, তা বলাই বাহুল্য।