Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

আয়ুর্বেদে ডিটক্স: কাদের দরকার, কখন জোঁক থেরাপি, জানালেন বিশেষজ্ঞ

ডিটক্স (Detox) মানেই শুধু লেবুর জল নয়। আয়ুর্বেদে (Ayurveda) পঞ্চকর্ম ও জোঁক থেরাপির মাধ্যমে কীভাবে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করা হয়, কাদের প্রয়োজন— জানালেন ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট আয়ুর্বেদিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (IPGAER)- এর প্রাক্তন অধ্যাপক ডক্টর প্রদ্যোৎ বিকাশ কর মহাপাত্র

আয়ুর্বেদে ডিটক্স: কাদের দরকার, কখন জোঁক থেরাপি, জানালেন বিশেষজ্ঞ

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডক্টর প্রদ্যোৎ বিকাশ কর মহাপাত্র।

জিনিয়া সরকার

শেষ আপডেট: 12 February 2026 13:15

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়েট, জিম, লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের মতোই খুব চলতি শব্দ ডিটক্সিফিকেশন। বর্তমান প্রজন্ম শরীর সচতেন কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, শরীর ভাল রাখার নানা আধুনিক উপায় সম্পর্কে সুপরিচিত সেটা মানতেই হবে। কথায় কথায় এই সব স্মার্ট শব্দের ঘোরাফেরা আজ স্কুল থেকে অফিস গোয়ার্সের মুখে বেশ ইন।

এ প্রসঙ্গেই জেনে নেওয়া যাক শরীরকে ডিটক্স করবেন কী করে? ডিটক্স মানে শুধু লেবুর জল পান কিংবা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন নয়। আয়ুর্বেদিক মতে, শরীর থেকে টক্সিন বের করার নানা পথ রয়েছে। সেগুলি জানা থাকলে তবেই এই পথে রোগমুক্তি সম্ভব।

কাদের দরকার

যাঁরা ঘাম ঝরান না, সারাদিন এসিতে থাকেন, জলপান কম করেন, শরীরে ক্লান্ত বেশি তাঁদের ক্ষেত্রে ডিটক্সিফিকেশন দরকার। মাসে এক বা একাধিকবার ডিটক্সিফিকেশন করলে ভাল।

ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানো, এটাও একধরনের ডিটক্সিফিকেশন পদ্ধতি। এছাড়া বমন বা বমি করে শরীর থেকে টক্সিন বের করা যায়। তবে আয়ুর্বেদিক উপায়ে পঞ্চকর্ম করে শরীরকে ডিটক্স করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল জোঁক থেরাপি।  

জোঁক থেরাপি কী?

আযুর্বেদিক ডিটক্সিফিকেশনে এই থেরাপি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। বিশেষ করে রক্ত দূষিত হয়ে থাকলে তা বিশুদ্ধকরণ করতে জোঁক থেরাপি দরকার। কী করা হয়? জোঁক দিয়ে রক্ত টেনে বের করিয়ে তা পরিশুদ্ধ করা হয়।

বিশেষত যদি দেখা যায়, শরীরে কোনও ক্ষত বা ঘা শুকাচ্ছে না, ডায়াবেটিক রোগীর শরীরের ক্ষত মারাত্মক পর্যায়ে গেছে, একজিমা, ত্বকে ইনফেকশন যা ওষুধে সারছে না তখন জোঁক থেরাপি ভীষনভাবে কার্যকর।

সেই ক্ষত স্থানে জোঁক বসিয়ে দিলে সেখান থেকে দূষিত রক্ত জোঁক টেনে বের করে নেয়। ফলে সেই সমস্যা ধীরে ধীরে সেরে যায়। আসলে বিষাক্ত রক্তে অসংখ্য রক্তনালীর মুখ বন্ধ হয়ে থাকে। জোঁকের মুখে একরকম এনজাইম (Hirudin) থাকে, সেটা জমাট বেঁধে যাওয়া রক্তকে পাতলা করতে সাহায্য করে। এই থেরাপি শোধন প্রকিয়াগুলির মধ্যে অন্যতম।

তবে সবার জন্য এই পদ্ধতিতে শোধন করা হয় না। যাঁদের ক্রণিক সমস্যা রয়েছে তাঁদের জন্যই এটি। প্রয়োজন অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন অথবা মাসে একদিন এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

কোথায় করা হয় জোঁক থেরাপি?

১. ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট আয়ুর্বেদিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ

২. জে বি রায় স্টেট আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল

৩. বিশ্বনাথ আয়ুর্বেদ মহাবিদ্যালয়

৪. ন্যাশানাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদিক ড্রাগ ডেভলপমেন্ট (এনআরআইএডিডি)

পঞ্চকর্মে জাদু

সারাদিন শরীরে বিপাক প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু টক্সিক উপাদান বেরচ্ছে না স্বাভাবিক পদ্ধতিতে। তখন আয়ুর্বেদের প্রাচীন ডিটক্সিফিকেশন থেরাপি পঞ্চকর্ম করে সুস্থ থাকা সম্ভব।  এই প্রক্রিয়ায় পাঁচটি প্রধান শুদ্ধিকরণ পদ্ধতি—বমন, বিরেচন, বস্তি, নস্য ও রক্তমোক্ষণ—ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিরাময় ও সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

পঞ্চকর্মের পাঁচটি মূল কর্ম

১. বমন-: বমির মাধ্যমে পাকস্থলী ও ফুসফুস থেকে কফ জনিত বিষাক্ত পদার্থ দূর করা।

২. বিরেচন: ভেষজ ওষুধের মাধ্যমে পেট পরিষ্কার করে পিত্ত জনিত বিষাক্ত পদার্থ বের করা. ৩.বস্তি: মেডিসিনযুক্ত এনিমা (Enema) যা বাত রোগের জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং শরীরকে বিষমুক্ত করে।

৪. নস্য: নাকের মাধ্যমে ওষুধ প্রয়োগ করে মাথা, গলা ও ঘাড়ের সমস্যা দূর করা

৫. রক্তমোক্ষণ: রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে রক্তজনিত রোগ নিরাময় করা।

এই চিকিৎসার তিনটি পর্যায়:

পূর্ব কর্ম: শরীরকে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা (স্নেহন ও স্বেদন)

প্রধান কর্ম: ৫টি মূল শুদ্ধিকরণ পদ্ধতি।

পশ্চাৎ কর্ম: চিকিৎসার পরবর্তী খাদ্যতালিকা ও জীবনযাত্রার নিয়ম ।

এই পদ্ধতি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মানসিক চাপ কমায়, অকাল বার্ধক্য রোধ করে এবং শরীর থাকে ঝরঝরে, তরতাজা। সবসময় পঞ্চকর্মের জন্য আয়ুর্বেদ ক্লিনিকেই যেতে হবে তা নয়, বমন ক্রিয়া করে, নিজে থেকে ব্যায়াম করেও সুস্থ থাকা যায়। প্রয়োজনে মাসে একবার এই পদ্ধতি মানলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায় অনেক বেশি।


```