আসলে প্রস্রাব চেপে রাখার বিষয়টি সাময়িক অস্বস্তি ছাড়া আর কিছুই মনে না হলেও বাস্তবে এর প্রভাব গুরুতর (holding pee health risk)।

শেষ আপডেট: 27 January 2026 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনের অনেকটা সময় বাইরে বাইরে কাটলে মহিলাদের একটা বিশেষ চিন্তা চেপে ধরে, প্রস্রাব পেলে যাবেন কোথায়! যেখানে সেখানে করা যাবে না - তাতে রয়েছে ইনফেকশনের ভয় (holding urine UTI risk)। যাতে যেখানে সেখানে টয়লেট যেতে না হয়, অনেকের কাছে একটা সহজ সমাধান জল না খাওয়া।
আসলে প্রস্রাব চেপে রাখার বিষয়টি সাময়িক অস্বস্তি (dangers of holding pee) ছাড়া আর কিছুই মনে না হলেও বাস্তবে এর প্রভাব গুরুতর, বিশেষ করে ব্লাডার বা মূত্রথলি ও কিডনির উপর (kidney damage holding pee)। কিন্তু হায়দরাবাদের বানজারা হিলসের কেয়ার হসপিটালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ইউরোলজি বিভাগের প্রধান পি ভামসি কৃষ্ণ জানাচ্ছেন, শুধু মূত্রথলি বা কিডনি নয়, এর মাশুল দিতে হচ্ছে গোটা শরীরকেই (holding pee health risk)।
সসময়মতো টয়লেটে না গেলে কী কী সমস্যা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তা ব্যাখ্যা করেছেন।
১) সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়
অনেকে ভাবেন, শুধু ব্লাডারে চাপ পড়াই আসল সমস্যা। কিন্তু ডা. কৃষ্ণ জানাচ্ছেন, নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রাখলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা UTI হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
তাঁর কথায়, “যাঁরা অভ্যাসগতভাবে বাথরুমে যেতে দেরি করেন, তাঁদের UTI হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। তবে পুরুষরাও পুরোপুরি নিরাপদ নন।”
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রস্রাব নিয়মিত শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্যই তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যদি তা ব্লাডারে জমে থাকে, তাহলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকার বেশি সময় পায়।”
UTI হলে সাধারণত যে উপসর্গগুলি দেখা যায়, সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল - প্রস্রাবের সময় জ্বালা, জ্বর, তলপেটে ব্যথা।
২) কিডনির উপর বাড়তি চাপ পড়ে
বারবার প্রস্রাব আটকে রাখলে কিডনিও বিপদের মুখে পড়তে পারে। ডাক্তার জানান, এতে ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স নামে একটি অবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রস্রাব উল্টো পথে কিডনির দিকে ফিরে যেতে শুরু করে।
এর ফলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কিডনি ড্যামেজ পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও এমন ঘটনা তুলনামূলক বিরল, তবু কয়েক মাস অন্তর পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
৩) জল কম খেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
আরও একটি বড় সমস্যা হল কম জল খাওয়া। ডাক্তারের মতে, অনেকেই ইচ্ছে করে জল কম খান, যাতে বারবার টয়লেটে যেতে না হয়। এর ফলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা তাঁর মতে, “ব্লাডারে জ্বালা তৈরি করতে পারে এবং কিডনি স্টোন হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।” অর্থাৎ প্রস্রাব চেপে রাখা আর জল কম খাওয়া - এই দুই অভ্যাস একসঙ্গে থাকলে ক্ষতি আরও দ্রুত হয়।
৪) মানসিক চাপ ও মনোযোগে প্রভাব পড়ে
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও এর প্রভাব পড়ে। ইউরোলজিস্ট জানান, ভর্তি ব্লাডার মস্তিষ্কে ক্রমাগত সিগন্যাল পাঠাতে থাকে, যার ফলে তৈরি হয় এক ধরনের লো-লেভেল স্ট্রেস ও মনোযোগের ঘাটতি।
ডা. ভামসি কৃষ্ণ বলেন, “ব্লাডারের এই সমস্যা মস্তিষ্ককে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখে। এতে মনোযোগ ও কগনিটিভ পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে।” উল্টো দিকে, সময়মতো টয়লেটে গেলে সতর্কতা ও কাজের দক্ষতা বাড়ে।
সব মিলিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ স্পষ্ট, শরীরের স্বাভাবিক সংকেতকে উপেক্ষা করবেন না। সময়মতো প্রস্রাব করুন, পর্যাপ্ত জল খান আর ‘এখন নয় পরে’ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। কারণ আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হওয়া এই অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যসমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।