ডাক্তারবাবুর সাফ কথা, ডায়াবেটিসের সমস্যায় 'ম্যাজিক প্ল্যান' বলে কিছু হয় না (can type 2 diabetes be reversed)। তিনি বারবার এও মনে করান যে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই ডায়াবেটিস থেকে 'সেরে ওঠা' সম্ভব।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 26 January 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিস (diabetes) একবার ধরা পড়া মানে জীবন দুর্বিষহ। ভাত-রুটি-আলু, শীতের নলেন গুড় - যে খাবারেই চোখ পড়বে, সেটাতেই সুগারের চোখরাঙানি (blood sugar)। এটা খাওয়া বারণ, ওটায় নিষেধাজ্ঞা। ডাক্তারের ঠিক করে দেওয়া কড়া ডায়েটেই (strict diet in diabetes) কি তাহলে আটকা পড়ে গেল জীবন? কিন্তু লাইফস্টাইল ডিজিজের (lifestyle disease) একটা ব্যাপার হল, এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাও (can diabetes be cured) সারিয়ে তোলা সম্ভব, বলছেন ডায়াবেটোলজিস্ট ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট আশিস মিত্র।
ডায়াবেটিস কি আদৌ রিভার্স (diabetes reverse) হওয়া সম্ভব? হলেও তা কীভাবে?
ডাঃ আশিস মিত্র জানালেন, ''এ কথা সত্যি যে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস (can type 2 diabetes be reversed) রিভার্স হতে পারে। কিন্তু ধরা পড়ার ছ'বছর পর্যন্তই তা সম্ভব।'' প্যানক্রিয়াস, লিভারের আশপাশে মেদ বাড়ার কারণে ইনসুলিন (insulin) ঠিক করে কাজ করতে পারে না। এদিকে পেশিতেও ফ্যাট জমছে। ফলে ডায়াবেটিস কমাতে গেলে (how to reduce diabetes) আগে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট কমাতে (fat loss in diabetes) হবে।
ডায়াবেটিসের সঠিক ডায়েট প্ল্যান কেমন হতে পারে?
ডাক্তারবাবুর সাফ কথা, ডায়াবেটিসের সমস্যায় 'ম্যাজিক প্ল্যান' বলে কিছু হয় না। এক মাসের ডায়েটে ডায়াবেটিস রিভার্স হয়ে যাবে, এমন বলা যায় না। তিনি বারবার এও মনে করান যে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই ডায়াবেটিস থেকে 'সেরে ওঠা' সম্ভব।
তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ডায়েট (diabetes diet) খুব কঠিন কোনও বিষয় নয়। তাঁর মতে, ''ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট (carbohydrate), ফ্যাট (fat), প্রোটিনের (protein) খেয়াল রাখলেও, ফাইবার অতটা গুরুত্ব পায় না। রেস্তরাঁতে গেলেও কেউ স্যালাড খান না। ওখানেই সমস্যা। লাঞ্চ, ডিনারে পরপর কী খাবার খাচ্ছি, সেই তালিকায় বদল আনতে পারলেই সুগার-ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে আসবে। ফাইবার-প্রোটিন-কার্ব এই হবে সঠিক অর্ডার (how to eat food in right order in diabetes)। আর ব্রেকফাস্ট (right breakfast) হতে হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ।''
ব্রেকফাস্ট (breakfast): দুটো করে ডিম খেতে পারেন। সঙ্গে কখনও ছোলার ছাতু, আবার কখনও সবজি দিয়ে ওটস বা ডালিয়া। পাউরুটি, চিঁড়ে, মুড়ি, হাতে গড়া রুটি খাওয়া মানেই সুগার বাড়বে।
প্রতিদিনের ডায়েটে ৪০ গ্রাম ফাইবার (fibre in diet) রাখতেই হবে। ডাক্তারবাবুর সহজ সমাধান, ''ফাইবারের ঘাটতি পূরণ করতে গেলে লাঞ্চ-ডিনার দুটোই শুরু করতে হবে একবাটি স্যালাড দিয়ে।''
লাঞ্চ (lunch): স্যালাডে (salad) শসা, টম্যাটো, গাজর, বিট থাকতেই হবে। বিনস, ব্রকোলিও যোগ করতে পারেন, সঙ্গে পাতিলেবুর রস আর ধনেপাতা। একবাটি ডাল। চুমুক দিয়ে খান, ভাত দিয়ে মেখে নয়। আলু ছাড়া যেকোনও শাকসবজি দিয়ে পৌনে এক কাপ মতো ভাত। মাছও খেতে হবে শুধু, ভাতের সঙ্গে নয়। তারপরও খিদে থাকলে একবাটি টকদই।''
ডিনার (dinner): এখানেও একই নিয়ম। শুরুটা হবে স্যালাড দিয়ে। দুটো রুটি খান। তবে ভাত-রুটি মেশানো চলবে না। সেটায় কার্ব শরীরে বেশি ঢোকে।
ডাক্তারবাবু জানালেন, ''চিয়া সিড (chia seeds) খেতে পারলে ভাল, নাহলে দুবেলা দু'বাটি স্যালাডেই ফাইবারের প্রয়োজন মিটবে। জাঙ্ক ফুড একদম বন্ধ। সঙ্গে দিনে দু'বার এক্সারসাইজ। সকালে ৪৫ মিনিট এবং খাওয়ার পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটার নিয়ম মানতে পারলেই জব্দ হবে ডায়াবেটিস। রিভার্সও হয়ে যেতে পারে (অবশ্যই তা ধরা পড়ার প্রথম ছ'মাসের মধ্যে)।
ফাইবার ডায়েটে থাকা কেন এত জরুরি? বিশেষ করে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে?
ডাঃ মিত্র বুঝিয়ে বলেন, ''ফাইবার শরীরে সুগারের শোষণকে কমিয়ে দেয়। ফলে খাবার পরে সুগার বাড়ার যে প্রবণতা, সেটা নিয়ন্ত্রণে আসে।''
আসল কথা এটাই যে, কোনও দামী খাবার নয়, বিশাল ডায়েট নয়। সঠিক আর ঘরোয়া খাবারেই 'ডায়েট' সম্ভব। সেটাই বুঝিয়ে বললেন ডায়াবেটোলজিস্ট।