শীতকাল মানে 'স্পেশ্যালিটি' নলেন গুড়ের লোভনীয় হাতছানি! অনেকের মতে, চিনির বদলে গুড় খাওয়া যেতেই পারে (should you eat jaggery instead of sugar)। একথা কি আদৌ সত্যি?

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 17 January 2026 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীত এসেছে মানেই নলেন গুড় (nolen gur), নানারকম মিষ্টি, খাবার - সব মিলিয়ে এলাহি ব্যাপার। কিন্তু তার মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ব্লাডসুগার (blood sugar)। ডায়াবেটিস (diabetes) আছে তো আছে, মন চাইলে কি একটা নতুন গুড়ের মিষ্টি (nolen gur sweets) বা একটু পিঠের সঙ্গে নলেন গুড় খাব না? এই প্রশ্ন নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়েছেন অনেকেই। সে খেতেই পারেন, তবে একটু হিসেব করতে হবে এই যা - এমনটাই বলছেন ডায়াবেটোলজিস্ট (diabetologist) ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট (endocrinologist) ডক্টর আশিস মিত্র।
আজকাল নানারকম প্যাকেটের খাবার (packaged food), বা জাঙ্ক ফুডের (junk food) দৌলতে চিনি খাওয়া অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে (excess sugar in daily diet)। ডায়াবেটিসের সমস্যায় আবার এমনিই অনেক কিছু খাওয়ায় বাধানিষেধ এসে যায়। তার মধ্যে শীতকালের স্পেশ্যালিটি নলেন গুড়ের লোভনীয় হাতছানি! অনেকেই বলেন, চিনির বদলে গুড় তো খাওয়া যেতেই পারে (should you eat jaggery instead of sugar)। একথা কি আদৌ সত্যি?
ডাঃ আশিস মিত্রের কথায়, ''যাঁর ডায়াবেটিস নেই, তাঁর জন্য চিনির থেকে গুড় ভাল অপশন (jaggery or sugar) - এটা বলা যেতে পারে। তার একটা বড় কারণ হল, গুড় হল পুরোপুরি প্রাকৃতিক (is jaggery natural)। চিনিতে থাকে কেমিক্যাল। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিনি, গুড়, বাতাসা, নকুলদানা - সবই সমান ক্ষতিকর। সবই ব্লাডসুগার বাড়াবে।''
তাহলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নলেন গুড় পুরোপুরি ধরাছোঁয়ার বাইরে?
একদমই তা নয়, বলছেন ডায়াবেটোলজিস্ট। ডাক্তারবাবুর সাজেশন, ''এখন যে নতুন গুড়ের সন্দেশ, জয়নগরের মোয়া উঠছে, সেটা সপ্তাহে হয়তো অর্ধেক খেলেন। সেদিন অন্য কার্বোহাইড্রেটে রেশ টানতে হবে। হয়তো ভাত কম খেলেন বা আলু খেলেন না, রুটি দুটোর বদলে একটা খেলেন (diabetes diet nolen gur)।''
ডাক্তারবাবুর কথায়, ''ডায়াবেটিস আসলে একটা লাইফস্টাইল ডিজিজ। কোভিড পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে বলে চোখে পড়ছে। তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি, যাঁরা আইটি-তে কাজ করেন।''
এই প্রজন্মেই লাইফস্টাইল ডিজিজের এত বাড়বাড়ন্ত কেন? সমস্যাটা ঠিক কোথায়?
ডায়াবেটোলজিস্ট ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডক্টর আশিস মিত্র বুঝিয়ে বলেন, ''কোভিডের পরে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বেড়েছে। ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কমে গিয়েছে। টুকটাক যেটুকু নড়াচড়া হতো, হয়তো বাসস্টপ থেকে টুকটাক হাঁটাহাঁটি বা অফিসে লিফটের বদলে সিঁড়ি - এইসব অভ্যাস বন্ধ এখন। তাছাড়া বেড়েছে ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা। তাঁর জন্য এখন বাজারে যাওয়ারও দরকার পড়ে না, বাড়িতে বসেই অনলাইনে এসে যায়। সব মিলিয়ে রোজের স্বাভাবিক নড়াচড়ার সুযোগটাই কমে যাচ্ছে।''
ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটা ভাল উপায় বাতলে দিলেন এই অভিজ্ঞ ডায়াবেটোলজিস্ট ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট। ''ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার একটা সহজ উপায় হল খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি। গুড় বা চিনি আসলে 'খাওয়ার পরের সুগার'টা বাড়িয়ে দেয়। সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখার একটা ভাল উপায় হল, খাওয়ার পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি।''
বাড়তে থাকা ক্যানসারের পিছনেও দায়ী এই চিনি-ই
ডাক্তারবাবু বারবার মনে করিয়ে দিলেন, ডায়াবেটিস না থাকলে চিনির থেকে গুড় নিশ্চয় ভাল, কারণ সেটা কেমিক্যাল ফ্রি। ডায়াবেটিস থাকলে চিনি খাওয়া যে খারাপ, শুধু তাই নয়, তাছাড়াও যে হারে ক্যানসার বাড়ছে, তার পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে এই চিনির।
ডাক্তারবাবুর সতর্কবার্তা, ''আমাদের আগের প্রজন্ম যা যা খেতেন, সেই তুলনায় আমাদের খাদ্যাভাসে অনেক বদল এসেছে। আমরা এখন কমবেশি সকলেই বিদেশী ডায়েট ফলো করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। এই দুটোই আসলে আজকাল ডায়াবেটিস বাড়ার কারণ হয়ে উঠেছে। খুব তাড়াতাড়ি যদি আমরা লাইফস্টাইলে বদল না আনি, তাহলে ডায়েবেটিস কিন্তু মহামারি হয়ে উঠতে পারে।''