প্রস্রাব চেপে রাখলে (Holding Back Pee) কী কী ক্ষতি হতে পারে? ইউটিআই (UTI) থেকে কিডনি ড্যামেজ (Kidney Damage)— বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট (Urologist) জানালেন সব ঝুঁকির কথা।

প্রস্রাব চেপে রাখা বিপজ্জনক।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ রোড ট্রিপ, ক্লাসরুমে বসে থাকা, পরীক্ষা চলাকালীন বা ব্যস্ততার অজুহাতে অনেকেই প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাসে অভ্যস্ত। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, একটু অস্বস্তি ছাড়া এতে আর তেমন কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবটা মোটেও এতটা সহজ নয়। সময়মতো প্রস্রাব না করলে শরীরের ভিতরে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে বড় বিপদ। বিশেষ করে মূত্রথলি ও কিডনির স্বাস্থ্যের উপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
হায়দরাবাদের কেয়ার হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ইউরোলজি বিভাগের প্রধান, রোবোটিক ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডক্টর পি. ভামসি কৃষ্ণা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন প্রস্রাব চেপে রাখা মোটেই নিরাপদ নয় এবং এর ফলে শরীরে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডাক্তারবাবু প্রথমেই জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রস্রাব চেপে রাখলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই-এর ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। অনেকেই ভাবেন, মূত্রথলিতে চাপ পড়া ছাড়া আর কিছু হয় না। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটা অনেক গভীর। তাঁর কথায়, যাঁরা অভ্যাসগতভাবে বাথরুমে যেতে দেরি করেন, তাঁদের ইউটিআই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি হলেও, পুরুষরাও একেবারেই নিরাপদ নন।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রস্রাব শরীর থেকে নিয়মিত বেরিয়ে যাওয়ার জন্যই তৈরি। কিন্তু সেটি যদি দীর্ঘ সময় ধরে মূত্রথলিতে জমে থাকে, তাহলে সেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার করার জন্য বেশি সময় পায়। ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ে। ইউটিআই হলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, জ্বর, তলপেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
শুধু সংক্রমণই নয়, প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস কিডনির উপরও মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ডক্টর ভামসি কৃষ্ণা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাব আটকে রাখলে ‘ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স’ নামে একটি সমস্যা হতে পারে। এই অবস্থায় প্রস্রাব উল্টো দিকে, অর্থাৎ মূত্রথলি থেকে কিডনির দিকে ফিরে যেতে পারে।
এতে কিডনির উপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যদিও এই সমস্যা খুব সাধারণ নয়, তবু নিয়মিত অভ্যাস থাকলে কয়েক মাস অন্তর পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যাতে কোনও জটিলতা আগেভাগেই ধরা পড়ে।
এই সমস্যার সঙ্গে আরও এক বিপজ্জনক অভ্যাস জড়িয়ে আছে—জল কম পান করা। ডক্টর ভামসি কৃষ্ণা বিশেষ করে পড়ুয়াদের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, পরীক্ষার সময় অনেক ছাত্রছাত্রী ইচ্ছে করেই জল কম খায়, যাতে বারবার বাথরুমে যেতে না হয়। কিন্তু এর ফল হতে পারে আরও খারাপ। জল কম খেলে প্রস্রাব বেশি ঘন হয়ে যায়। এই ঘন প্রস্রাব মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ায় প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস। ডক্টর ভামসি কৃষ্ণার মতে, ভর্তি মূত্রথলি থেকে বারবার মস্তিষ্কে সঙ্কেত যায়, যা অবচেতনভাবে মানসিক চাপ ও অস্থিরতা তৈরি করে। এর ফলে মনোযোগ কমে যায়, কাজের দক্ষতাও প্রভাবিত হয়। বিশেষ করে পরীক্ষার হলে পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনমতো বাথরুমে যাওয়া বরং মনোযোগ ও কাজের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, শরীরের স্বাভাবিক তাগিদকে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো প্রস্রাব করা, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং নিজের শরীরের সঙ্কেতকে গুরুত্ব দেওয়াই মূত্রথলি ও কিডনিকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়।