পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুন করে প্রথমে নিজের ভাড়া বাড়িতে ফিরেছিলেন নিখিল। আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন।

অভিযুক্ত ও মৃত শিশু
শেষ আপডেট: 10 July 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির জনপ্রিয় মজনু কা টিলা এলাকায় প্রেমিকা ও এক দুধের শিশুকে খুন করলেন যুবক। শিশুটির বয়স মাত্র ছ'মাস। ধারালো সার্জিকাল ব্লেড দিয়ে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কিন্তু সফল না হওয়ায় পালিয়ে যান।
মৃত সোনাল (২২) ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে ওই বাড়িটিতে থাকছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাঁর ওপর আক্রমণ চালায় আদতে উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানির বাসিন্দা নিখিল। প্রথমে সোনালকে খুন করেন তারপর ওই বাড়িতে থাকা ছয় মাসের শিশুটিকেও গলা কেটে হত্যা করেন। বুধবার বহু রাজ্যে তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে হালদ্বানিতে একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২০২৩ সালে হালদ্বানির একটি অনুষ্ঠানে সোনালের সঙ্গে আলাপ হয় নিখিলের। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রেম এবং একসঙ্গে থাকা। সে বছরের শেষের দিকে সোনাল অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আর্থিক সঙ্কট থাকায় ও অবিবাহিত হওয়ায় গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কিন্তু পরে পরিকল্পনা করেন, বাচ্চা নিয়ে তাকে বেচে দেবেন।
২০২৪ সালের শুরুতে সন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগ, সেই সন্তানকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে আলমোড়ায় এক ব্যক্তিকে বিক্রি করে দেন তাঁরা। সেই টাকাতেই দিল্লিতে এসে প্রথমে ওয়াজিরাবাদ এবং পরে মজনু কা টিলায় থাকতে শুরু করেন। দু'জনের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে এখান থেকেই। সোনালের সঙ্গে আলাপ হয় মজনু কা টিলার বাসিন্দা রেশমির। তাঁর বাড়িতে যাতায়াত করেন যুবতী। পরে প্রেমিক নিখিলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় রেশমির বাড়িতে প্রায়শই থাকতে শুরু করেন সোনাল।
রেশমির স্বামী দুর্গেশের সঙ্গে সোনালের সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ গয় নিখিলের। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখে সোনালকে একাধিকবার প্রশ্নও করেন তিনি। এই সময়ই আবার সোনাল অন্তঃসত্ত্বা হন। এ বার সেই সন্তান রাখতে চেয়েছিলেন নিখিল। সংসার পাতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সোনাল গোপনে গর্ভপাত করিয়ে ফেলেন। সন্দেহ, দুর্গেশই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত দেন।
সন্তান ভূমিষ্ট হওয়াক আগেই তাকে হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন নিখিল। ঘটনার ২০-২৫ দিন আগে সোনাল পুরোপুরি রেশমির বাড়িতে চলে যান এবং সেখানেই থাকা শুরু করেন। নিখিল তখনও সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু তা আর কাজে আসেনি।
এরপর বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ রেশমি ও দুর্গেশ তাদের পাঁচ বছরের বড় মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যান। বাড়িতে ছিলেন সোনাল ও রেশমির ছয় মাসের মেয়ে। এই সময় রেশমির বাড়িতে ঢোকেন নিখিল। সঙ্গে ছিল সার্জিকাল ব্লেড। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় পরে নিখিল সোনালের মুখ বেঁধে গলা কেটে খুন করেন।
যেহেতু দুর্গেশের প্ররোচনায় সোনাল গর্ভপাত করেছেন বলে সন্দেহ ছিল নিখিলের, তাই আক্রোশের জেরে ছয় মাসের বাচ্চাটিকেও মেরে ফেলেন তিনি। বাচ্চাটির কান্নার আওয়াজ যাতে বাইরে না বের হয় তাই প্রথমে টেপ দিয়ে তার মুখ ভাল করে বেঁধে তারপর গলা কেটে দেওয়া হয়। খুনের পর নিজের ফোন ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যান যুবক, যাতে লোকেশন ট্র্যাক না হয়।
স্কুল থেকে ফিরে রেশমি ও দুর্গেশ দেখেন, রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুন করে প্রথমে নিজের ভাড়া বাড়িতে ফিরেছিলেন নিখিল। আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপর পুরনো দিল্লি স্টেশন হয়ে বেরেলি এবং সেখান থেকে হালদ্বানি পৌঁছে তাঁর বোনের এক পরিচিতের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পুলিশের দল পৌঁছনোর আগেই সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। কিন্তু রাতভর পালিয়ে বেড়ানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে আবার সেই বাড়িতে ফিরে আসায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে খুনের দায় স্বীকার করেন। এই ঘটনায় দুর্গেশ সত্যিই জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গোটা বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।