মন্দিরের জিনিসগুলি ফেরত এলেও আগের তুলনায় তাতে সোনার পরিমাণ অনেকটাই কম। সন্দেহ, এই সোনা চুপিসারে বের করে বিক্রি করা হয়েছে।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 5 January 2026 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালায় আয়াপ্পা মন্দিরে (Sabarimala Ayyappa Temple in Kerala) সোনা চুরি কেলেঙ্কারি মামলায় কেরল হাইকোর্টের (Kerala High Court) কড়া মন্তব্য মুছে ফেলার আবেদন করেছিলেন দেবস্বম বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য কেপি শঙ্কর দাস (Former Devaswom Board member KP Shankar Das )। তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
এদিনের শুনানিতে শীর্ষ আদালত বলে, "এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতের মন্তব্য মুছে দেওয়ার প্রশ্নই নেই।" বিচারপতিরা এও মন্তব্য করেন, “আপনারা তো ঈশ্বরকেও ছাড়লেন না!”
মূল অভিযোগ
শবরীমালা মন্দিরের সোনায় মোড়া তামার পাত (Gold-plated copper plates) এবং অন্যান্য ধাতব সামগ্রী মেরামত ও ইলেক্ট্রোপ্লেটিংয়ের জন্য বাইরে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, মন্দিরের জিনিসগুলি ফেরত এলেও আগের তুলনায় তাতে সোনার পরিমাণ অনেকটাই কম। সন্দেহ, এই সোনা চুপিসারে বের করে বিক্রি করা হয়েছে। সিট-এর অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণন পট্টি মন্দিরের সোনা ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরিয়ে নিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ-
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ জানায়, দেবস্বম বোর্ডের সদস্য হিসেবে শঙ্কর দাসেরও দায়িত্ব ছিল। তাই অভিযোগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই তাঁর। আদালত আরও বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হলেও, বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে হাইকোর্ট তাঁকে কেবল কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল।
শঙ্কর দাস হাইকোর্টের রায়ে থাকা পাঁচটি অনুচ্ছেদ মুছে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, রায়ের পর্যবেক্ষণ মুছে ফেলার কোনও প্রয়োজন নেই। ফলে তাঁর আবেদন সম্পূর্ণরূপে খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে কেরল হাইকোর্টের দেবস্বম বেঞ্চ সিটকে তদন্ত শেষ করার জন্য আরও ছয় সপ্তাহ সময় দিয়েছে। সিট আদালতে জানিয়েছে, তদন্তের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। সেই সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী রিপোর্ট আগামী ১৯ জানুয়ারি জমা দেওয়া হবে।