স্বাস্থ্য দফতরের টিম একদিনে প্রায় সাড়ে নয় হাজার মানুষকে পরীক্ষা করে এই নতুন সংক্রমণ খুঁজে পেয়েছে (Contaminated water Indore)।

ইন্দোর বিপর্যয়
শেষ আপডেট: 8 January 2026 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সবচেয়ে 'পরিচ্ছন্ন' শহর ইন্দোরে দূষিত পানীয় জলের কারণে ডায়রিয়ার কবলে শহরের একাংশ (Indore diarrhoea outbreak)। পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। রবিবার নতুন করে আরও ২০ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। ভগীরথপুর এলাকায় স্বাস্থ্য দফতরের টিম একদিনে প্রায় সাড়ে নয় হাজার মানুষকে পরীক্ষা করে এই নতুন সংক্রমণ খুঁজে পেয়েছে (Contaminated water Indore)। ইতিমধ্যেই এই এলাকায় ছয় জনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগীরথপুরে ২ হাজার ৩৫৪টি বাড়িতে ঘুরে ঘুরে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোট ৯ হাজার ৪১৬ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই সমীক্ষাতেই ২০ জন নতুন রোগীর খোঁজ মিলেছে। ডায়রিয়ার প্রকোপ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে (Indore diarrhoea outbreak)। এদের মধ্যে ২৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনও ১৪২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে ১১ জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
চিফ মেডিক্যাল অ্যান্ড হেলথ অফিসার জানিয়েছেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনস (NIRBI) থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল ইন্দোরে পৌঁছেছে (Kolkata medical team to Indore)। ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (ICMR) অন্তর্গত এই সংস্থা স্বাস্থ্য দফতরকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে যাতে দ্রুত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং দূষণের উৎস স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়।
এদিকে মৃত্যুর সংখ্যা ঘিরে বিভ্রান্তি বাড়ছে। প্রশাসন যেখানে ছয় জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, ইন্দোরের মেয়র আবার জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি আরও ভয়াবহ। তাঁদের কথায়, দূষিত জল খেয়ে ইতিমধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছে ছয় মাসের এক শিশুও।
একটানা আটবার ভারতের 'স্বচ্ছ' শহরের তকমা পেয়েছে ইন্দোর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যেন সেখানে অভিশাপের কালো ছায়া নেমে এসেছে। তবে এটি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের উদাসীনতা, ধুলো জমে থাকা ফাইল আর নিকাশি ব্যবস্থায় ঘাটতি এই বিপর্যয়ের কারণ বলে মনে করছেন অনেকে (Contaminated water deaths)। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই একই অভিযোগ।
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের দাবি, ভাগীরথপুরের এই ‘ট্র্যাজেডি’ কোনও দুর্ভাগ্য নয়, এটি একটি মৃত্যুফাঁদ, যা বছরের পর বছর প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করেছে (Preventable tragedy)। ফাইলবন্দি সতর্কবার্তা, ভাঙা পাইপ, অব্যবস্থা ও নজরদারি-শূন্য জলের ব্যবস্থাই আজ সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।