সোমবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে অসম। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ছাড়াও বাংলার বিভিন্ন অংশে কম্পন অনুভূত হয়, আতঙ্কে ঘর ছাড়েন মানুষ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 January 2026 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোররাতে আচমকা কেঁপে উঠল অসম (Assam)। সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিট নাগাদ মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে (Earthquake) আতঙ্ক ছড়াল গোটা রাজ্যজুড়ে। ঘুম ভেঙে অনেকেই ছুটে বেরিয়ে আসেন বাড়ির বাইরে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (National Centre for Seismology, NCS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে (Richter Scale) কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ব্রহ্মপুত্রের (Brahmaputra) দক্ষিণ তীরে মরিগাঁও (Morigaon) জেলা। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু। অক্ষাংশ ২৬.৩৭ ডিগ্রি উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৯২.২৯ ডিগ্রি পূর্বে এই কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রশাসনের জানিয়েছে, আপাতত কোথাও প্রাণহানি বা বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। তবে কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ব্রহ্মপুত্রের দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তা স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। কামরূপ মহানগর (Kamrup Metropolitan), নগাঁও (Nagaon), পূর্ব ও পশ্চিম কার্বি আংলং (East and West Karbi Anglong), হোজাই (Hojai), ডিমা হাসাও (Dima Hasao), গোলাঘাট (Golaghat), জোরহাট (Jorhat), শিবসাগর (Sivasagar), চরাইদেও (Charaideo), কাছাড় (Cachar), করিমগঞ্জ (Karimganj), হাইলাকান্দি (Hailakandi), ধুবড়ি (Dhubri), দক্ষিণ সালমারা-মানকাচার (South Salmara Mankachar) এবং গোলপাড়া (Goalpara)- প্রায় সব জেলাই কেঁপে ওঠে।
শুধু দক্ষিণ অসম নয়, উত্তর অসমের একাধিক জেলাতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দরং (Darrang), তামুলপুর (Tamulpur), সোনিতপুর (Sonitpur), কামরূপ (Kamrup), বিশ্বনাথ (Biswanath), উদালগুড়ি (Udalguri), নলবাড়ি (Nalbari), বজালি (Bajali), বরপেটা (Barpeta), বাক্সা (Baksa), চিরাং (Chirang), কোকরাঝাড় (Kokrajhar), বঙাইগাঁও (Bongaigaon) এবং লখিমপুরেও (Lakhimpur) কম্পন অনুভূত হয়।
অসম ছাড়া ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে (Northeast India)। মধ্য-পশ্চিম অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh), গোটা মেঘালয় (Meghalaya), নাগাল্যান্ড (Nagaland), মণিপুর (Manipur), মিজোরাম (Mizoram), ত্রিপুরা (Tripura) এবং পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বেশ কিছু এলাকায় কম্পন টের পাওয়া যায়। এমনকি ভুটানের (Bhutan) মধ্য-পূর্বাংশ, বাংলাদেশের (Bangladesh) কিছু এলাকা এবং চিনের (China) সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও এই ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে বলে জানাচ্ছে সিসমোলজি রিপোর্ট।
ভোরের ঘুম ভেঙে হঠাৎ এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেকেই খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।