৫২ বছর বয়সি আখলাকের হত্যার সময় উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় ছিল অখিলেশ যাদবের সরকার। তখন দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায় আখলাকের পরিবারে ফ্রিজের ভিতর গোমাংস মেলার অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 November 2025 10:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের (Gujarat) বিলকিস বানোর (Bilkis Bano) মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মহম্মদ আখলাকের (Md Akhakh) পরিবার। বাড়িতে গো মাংস রাখার (Beef) অভিযোগে এক দশক আগে যোগী রাজ্যের গৌতম বুদ্ধ নগরের বাসিন্দা মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করেছিল (Mob Lyching) উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। গুরুতর আহত তাঁর পুত্র দানিস এখনও চিকিৎসাধীন। সেই ঘটনায় ধৃত ১৯ জনকে নির্দোষ দাবি করে জেলা উচ্চ আদালতে আপিল করেছে যোগী আদিত্যনাথের প্রসাসন।
গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার সহকারী সরকারি আইনজীবী ভাগ সিং আদালতে সরকারি নির্দেশের কথা জানিয়েছেন। সরকারের পিটিশনে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের (UP Police) অতিরিক্ত অধিকর্তা (মামলা) ব্রিজেস কুমার মিশ্রের লেখা একটি চিঠি সংযুক্ত করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আদালতে নিহত আখলাকের স্ত্রী ইক্রামন বিবি ও পুত্র-কন্যারা এক এক সময় এক এক কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্যে অনেক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
৫২ বছর বয়সি আখলাকের হত্যার সময় উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় ছিল অখিলেশ যাদবের সরকার (Akhilesh Yadav Govt)। তখন দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায় আখলাকের পরিবারে ফ্রিজের ভিতর গোমাংস মেলার অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ওই মামলায় অভিযুক্ত সকলেই এখন জামিনে মুক্ত। অভিযুক্তদের একজন প্রয়াত হয়েছেন। তদন্তে উত্তর প্রদেশ পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি জানায় আখলাকের পরিবারের ফ্রিজে পাঁঠার মাংস (Mutton) পাওয়া গিয়েছিল। পরে মথুরায় ভারত সরকারের ল্যাবরেটরির উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। তারা বলে ফ্রিজে মাংসের মধ্যে কিছু গরুর মাংসও ছিল। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন।
আখলাকের স্ত্রী ও পরিবারের বাকি সদস্যরা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন মামলা নিয়ে তাদের গোড়া থেকেই সংশয় ছিল। আদালতে সরকার পক্ষ জোড়ালে ভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে সওয়াল করেনি।
এক দশক আগে আখলাককে হত্যার ঘটনা নিয়ে সারা দেশে শোরগোল হয়েছিল। দু'বছর পর যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গো হত্যা বন্ধ এবং গরুর মাংস বিক্রি ও বহন বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন করে। চাপা পড়ে যায় আখলাক হত্যা প্রসঙ্গ।
এখন সেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে উত্তর প্রদেশ সরকারের ভূমিকা ঘিরে আলোচনায় এসেছে গুজরাতের বিলকিস বানোর প্রসঙ্গ। গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিসের পরিবারের ১১ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। গণধর্ষণের শিকার হন অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস। নিম্ন আদালতে অভিযুক্তদের কয়েকজনের যাবজ্জীবন কারাবাস এবং ফাঁসির সাজা হয়। ২০২৩-এ গুজরাট সরকার বিশেষ ক্ষমতা বলে আসামিদের মুক্তি দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আবার ওই আসামীদের জেলে ফিরে যেতে হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের মত গুজরাট সরকারও আদালতে আসামিদের নির্দোষ বলে দাবি করেছিল।