কেন বৃহস্পতিবারের রায় নিয়ে আগাম কৌতূহল তৈরি হয়েছে দেশটিতে? শীর্ষ আদালত ওই মামলায় যে রায় দেবে তার উপর নির্ভর করছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে নাকি দায়িত্ব নেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 November 2025 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (Bangladesh Supreme Court) আজ বৃহস্পতিবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কী রায় দেয় এদিকে চেয়ে আছে গোটা দেশ। বিশেষ কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লিগ (Awami League)। সে দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দেবেন।
কেন বৃহস্পতিবারের রায় নিয়ে আগাম কৌতূহল তৈরি হয়েছে দেশটিতে? শীর্ষ আদালত ওই মামলায় যে রায় দেবে তার উপর নির্ভর করছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের (Muhammad Yunus Govt) অধীনে অনুষ্ঠিত হবে নাকি দায়িত্ব নেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে তা হবে শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন তিন মাসের জন্য। বাংলাদেশের সংবিধানে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনকালীন এই ধরনের সরকার গঠনের বিধান যুক্ত হয়েছিল। বিএনপি জামানায় (BNP) চালু ওই বিধান নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে।
এক পর্যায়ে বাংলাদেশ হাইকোর্ট (Bangladesh) ওই সংবিধান সংশোধনী বাতিল করে দিলে ২০১১ সালে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সরকার সংসদে বিল এনে রায় কার্যকর করে। ফলে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল হয়ে যায়।
গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর দাবিতে মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে দেওয়ার পর মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিবেচনাধীন। সেই মামলায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দেবে। মামলার অন্যতম শরিক বিএনপি (BNP) এবং জামাত-ই ইসলামি (Jamat)। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার সহ নাগরিক সমাজের একাধিক জন এই মামলায় যুক্ত আছেন।
সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পক্ষে রায় দিলে ইউনুস সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় ও জটিলতা তৈরি হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের তিন মাস আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। ফলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু হলে বর্তমান প্রধান বিচারপতি হবেন সেই সরকারের প্রধান। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি রিফায়াত আহমেদ চলতি মাসেই অবসর নেবেন।
শেখ হাসিনার বিগত ১৫ বছরের শাসনে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলি বারে বারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করলেও আওয়ামী লিগ সরকার তা মানেনি। হাসিনা সরকারের বক্তব্য ছিল, সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান নেই।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লিগও চাইছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মহম্মদ ইউনুস এর অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হোক। শেখ হাসিনা এবং দলের প্রথমসারির নেতারা বিগত কয়েক মাস ধরে তত্ত্বাবাদের সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। দলের নেতা মহম্মদ আলি আরাফাত এই বিষয়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে সড়ক হয়েছেন। বেশ কয়েকটি নিবন্ধে তিনি যুক্তি দিয়েছেন কেন এখন তত্ত্বাবধাযক সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
শেখ হাসিনার দল আশাবাদী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে তাদের ওপর কার্যক্রম নিষেধের নির্দেশিকা প্রত্যাহার হবে এবং আওয়ামী লিগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এমনকী, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদন্ডের সাজা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে রদ হয়ে যেতে পারে বলে আওয়ামী লিগ আশাবাদী।
অন্যদিকে বিএনপি এবং জামাত রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরনো দাবি মত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে চাইছে। এই দুই দল মনে করছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সত্যিই গঠিত হলে আওয়ামী লিগ যাতে ময়দানে ফিরতে না পারে সেজন্য এই দুটি দল জোরদার চেষ্টা চালাবে।