চিঠিতে ইন্ডিগো-র (IndiGo) এই দুরাবস্থার জন্য সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স-সহ (IndiGo CEO Pieter Elbers) অন্যান্য শীর্ষকর্তাদের দায়ী করেছেন ওই কর্মী (চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল)।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 7 December 2025 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ছ'দিনে দেশের অন্যতম বৃহত্তম সংস্থা ইন্ডিগোর পরিষেবায় (IndiGo Service) বিপর্যয় নেমে এসেছে। বহু বিমান বাতিল, দেরিতে উড়ান, বিমানবন্দরে লম্বা লাইন, যাত্রীদের অসন্তোষ- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি একেবারেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এরইমধ্যে ইন্ডিগোর এক কর্মীর লেখা 'খোলা চিঠি' (Open Letter) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
চিঠিতে ইন্ডিগো-র (IndiGo) এই দুরাবস্থার জন্য সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স-সহ (IndiGo CEO Pieter Elbers) অন্যান্য শীর্ষকর্তাদের দায়ী করেছেন ওই কর্মী (চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল)। তাঁর দাবি, ইন্ডিগোর বর্তমান সঙ্কট এক দিনে তৈরি হয়নি, বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুর্বল প্রশাসন, অব্যবস্থা, কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ এবং নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের ফল। সংস্থার যে অবনতি হচ্ছে তা কর্মীরা বহু আগেই বুঝতে পেরেছিলেন।
An open letter from @IndiGo6E pilots to people of India. https://t.co/yBr64JXXS7 pic.twitter.com/AXtvkHu6D3
— AWCS (@AeroAwcs) December 6, 2025
নিজেকে দীর্ঘ সময় ইন্ডিগোতে (IndiGo) কর্মরত বলে পরিচয় দিয়ে তিনি লেখেন, “আমি এই চিঠি কোনও কর্মী হিসেবে নয়, বরং একজন ভারতীয় হিসেবে লিখছি। কারণ আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শুধু আমাদের অফিসের সমস্যা নয়, দেশের লাখ লাখ যাত্রীর অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও লেখেন, "সংস্থার ভিতরকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন, কীভাবে ধীরে ধীরে ভাঙন তৈরি হচ্ছিল।"
চিঠিতে আরও অভিযোগ (Indigo employee complaint), "যোগ্যতার বদলে ‘প্রিয়পাত্র’দের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল। এমনকি কেউ কেউ নাকি সাধারণ একটি ইমেল লিখতেও পারে না, অথচ তাঁরা শীর্ষ পদে রয়েছেন। কর্মীরা ক্লান্তি বা বিশ্রামের সুযোগ না পেয়েও রাত-দিন কাজ করতেন। পর্যাপ্ত স্টাফ নিয়োগ না করায় অনেক সময় একজনকেই দু-তিন জনের কাজ সামলাতে হতো।
কখনও কখনও কারণ না জানিয়েই বেতন কেটে নেওয়া হত বলেও দাবি করা হয়েছে। "উর্ধ্বতনদের আচরণে অহংকার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে কর্মীদের কথা ভাবার জায়গা ছিল না," চিঠিতে এই কথাই স্পষ্ট জানিয়েছেন ওই কর্মী।
ইন্ডিগো বিপর্যয়
গত কয়েকদিন ধরে মুম্বই, হায়দরাবাদ, গুয়াহাটি-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। শুধু শনিবারই ১০০-র বেশি বিমান বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্থাটি গত শুক্রবার বড়সড় 'সিস্টেম রিবুট' করে। এর ফলে ৫ ডিসেম্বর ইন্ডিগো মাত্র ৭০০-র কিছু বেশি বিমান চালায়। রিবুট চলাকালীন বহু রুটে পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে একদিকে বাতিল বিমান, অন্যদিকে সময় বদল- সব মিলিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানায়, রবিবার থেকেই তারা সারাদিনে ১,৫০০-র বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে বলে আশা করছে। একই সঙ্গে জানানো হয়—
একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছে এই অসুবিধার জন্য ক্ষমা চেয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে খুব শীঘ্রই পুরো নেটওয়ার্কে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।
ইন্ডিগোর এই বড় ধরনের অপারেশনাল সমস্যায় অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ করল দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA (Directorate General of Civil Aviation)। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমান সংস্থা ইন্ডিগো-র সিইও পিটার এলবার্সকে (IndiGo CEO Pieter Elbers) শোকজ নোটিস পাঠানো হল (DGCA show cause notice IndiGo CEO)। 'এত বড় বিপর্যয়ের দায় এড়াবেন কীভাবে?' সিইও-কে সরাসরি প্রশ্ন ডিজিসিএ-র।