ডিজিসিএ-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাইলটদের ডিউটি ও বিশ্রামের সময় ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি ইন্ডিগো। সময়মতো রোস্টার তৈরি না হওয়ায় পুরো অপারেশনই ধসে পড়েছে।

ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবার্স
শেষ আপডেট: 7 December 2025 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকদিন ধরেই দেশজুড়ে ইন্ডিগো বিপর্যয় (IndiGo Flight Disaster)! একের পর এক বিমান বাতিল এবং নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে উড়ানে নাজেহাল যাত্রীরা। বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের ভিড়। ইন্ডিগোর এই বড় ধরনের অপারেশনাল সমস্যায় অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ করল দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA (Directorate General of Civil Aviation)। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমান সংস্থা ইন্ডিগো-র সিইও পিটার এলবার্সকে (IndiGo CEO Pieter Elbers) শোকজ নোটিস পাঠানো হল (DGCA show cause notice IndiGo CEO)। 'এত বড় বিপর্যয়ের দায় এড়াবেন কীভাবে?' সিইও-কে সরাসরি প্রশ্ন ডিজিসিএ-র।
DGCA-এর অভিযোগ, এই সংকট কোনও হঠাৎ করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নয়, বরং সংস্থার প্রস্তুতির ঘাটতির ফল। বিমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বলেছে, '১ নভেম্বর থেকে পাইলটদের নতুন ডিউটির সময়ের নিয়ম (Duty Time Limit) চালু করা হবে, এই সিদ্ধান্ত বহু মাস আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু ইন্ডিগো সময়মতো নিজেদের রস্টার, স্টাফিং ও অপারেশনাল পরিকল্পনা ঠিকভাবে সাজাতে পারেনি। ফলে এখন পাইলট ও ক্রুর ঘাটতি, এত সংখ্যায় বিমান বাতিল (IndiGo flight cancellations) এবং পরিষেবায় দেরি, সব মিলিয়ে পুরো নেটওয়ার্কেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
ডিজিসিএ-র নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, 'ইন্ডিগোর বিমানে সম্প্রতি ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে, যার ফলে যাত্রীরা গুরুতর অসুবিধা ও সংকটে পড়েছেন।'
ডিজিসিএ-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাইলটদের ডিউটি ও বিশ্রামের সময় ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি ইন্ডিগো। সময়মতো রোস্টার তৈরি না হওয়ায় পুরো অপারেশনই ধসে পড়েছে। এতে ১৯৩৭ সালের Aircraft Rules-এর নিয়ম '৪২এ' আর একাধিক Civil Aviation Requirement (CAR) ভঙ্গ হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি বিমান বাতিল বা দেরির সময় যাত্রীদের তথ্য, সাহায্য বা প্রয়োজনীয় সুবিধাও ঠিকমতো দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, সংস্থার প্রধান হিসেবে সিইও-এর দায়িত্ব ছিল সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া, নিয়ম মেনে পরিষেবা চালানো এবং যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি ইন্ডিগো।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, একদিনে ১০০টিরও বেশি বিমান বাতিল করতে হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কোনও বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিইও-র জবাব চেয়েছে ডিজিসিএ (Directorate General of Civil Aviation)। সময়মতো উত্তর না পেলে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে এবং শাস্তি হিসেবে জরিমানা থেকে শুরু করে লাইসেন্স বা অপারেশনে কড়াকড়ি- সবই হতে পারে বলে কার্যত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।