এই পরিস্থিতিতে লাগাম টানতে মাঠে নেমেছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। স্পষ্ট নির্দেশ - যাত্রীদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ানো চলবে না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 December 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিগো–র (Indigo) বিপর্যয়ের জেরে বিগত কয়েকদিনে ব্যাপকহারে ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) হয়েছে দেশে। একের পর এক বাতিল হওয়া বিমানের চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ যাত্রীর পকেটে। শেষ মুহূর্তে হঠাৎ যাত্রার প্রয়োজন পড়ায় কেউ দিচ্ছেন দ্বিগুণ, কেউ তিনগুণ ভাড়া। জনপ্রিয় রুটগুলিতে টিকিটের দাম (Ticket Price) রাতারাতি এমন স্তরে পৌঁছে গেছে যে আন্তর্জাতিক রুটেও তুলনায় কম খরচ পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে লাগাম টানতে মাঠে নেমেছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক (Aviation Ministry)। স্পষ্ট নির্দেশ - যাত্রীদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছেমতো ভাড়া (Ticket Fare) বাড়ানো চলবে না। প্রস্তাবিত নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্য নিলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে।
শনিবার অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক স্পষ্ট নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে - সব বিমান সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন ফেয়ার ক্যাপ মানতেই হবে। স্বল্প দূরত্বে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ হাজার থেকে দীর্ঘ রুটে ১৮ হাজার টাকা ভাড়া নিতে হবে। এই নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে সরকার।
নতুন ফেয়ার ক্যাপ: কোন রুটে কত সর্বোচ্চ ভাড়া?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব ডোমেস্টিক ইকনমি ক্লাস ফ্লাইটে ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে দূরত্ব অনুযায়ী -
৫০০ কিমি পর্যন্ত: সর্বোচ্চ ৭,৫০০ টাকা
৫০০–১০০০ কিমি: সর্বোচ্চ ১২,০০০ টাকা
১০০০–১৫০০ কিমি: সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা
১৫০০ কিমির উপরে: সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা
এই সীমার মধ্যে UDF, PSF এবং ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যবসায়িক শ্রেণির টিকিট ও RCS–UDAN ফ্লাইটকে এতে রাখা হয়নি।
ফ্লাইট সংকটের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে কলকাতা (Kolkata) থেকে অন্যান্য শহরের রুটে। কলকাতা–মুম্বই, পুণে, দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, গোয়া... সব রুটের বিমানের ভাড়া কার্যত আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। কোনও রুটে শুক্রবার ভাড়া ছিল ৫০ হাজার, শনিবার তা হয়েছে ৭১ হাজার! আরও কোথাও শুক্রবার ভাড়া ছিল ৭২ হাজার টাকা। শনিবারের ভাড়া একটু কমে ৬০ হাজার এবং রবিবার সেটাই হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড়সড় মূল্যবৃদ্ধি শুধু ফ্লাইট ঘাটতির ফল নয়; আকস্মিক চাহিদা, রুটে বিমানের সীমিত উপস্থিতি এবং গতিশীল প্রাইসিং সিস্টেম - এই তিনেই আগুন লেগেছে ভাড়ায়।
কেন এমন বিপর্যয়?
পাইলট ও ক্রুদের ঘাটতি, নতুন FDTL–নিয়মে বাড়তি বিশ্রাম, তার সঙ্গে প্রযুক্তিগত জটিলতা, সব মিলিয়ে ইন্ডিগো দিন কয়েক ধরে স্বাভাবিক পরিষেবা দিতে পারছে না। একাধিক বিবৃতিতে সংস্থা যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, টাকার সম্পূর্ণ রিফান্ড দেওয়া হবে।
এদিকে, ইন্ডিগোর (Indigo) বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme) একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে। আবেদনে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। পিটিশনে আদালতকে সুয়োমোটো নজরদারি শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশনকে (DGCA) বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নতুন পাইলট ডিউটি-আওয়ার নিয়ম (FDTL) কার্যকর করার ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর গণনায় ভুল এবং পরিকল্পনায় ঘাটতি থেকেই এই ব্যাপক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থার প্রয়োজনীয় পাইলট-সংখ্যা সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারাই সংকটকে চরমে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।