মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অ্যাকশন ‘হতে পারে’—এ কথা নয়। অ্যাকশন হবেই। এ রকম ঘটনা চলতে দেওয়া যাবে না। যাত্রীই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 December 2025 09:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সংস্থা কার্যত অচল। টানা দু’দিন ধরে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরে যাত্রী ক্ষোভ চরমে। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিগোর ‘অপারেশনাল মেল্টডাউন’-এর দায় একেবারে সংস্থার ঘাড়েই চাপালেন কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু।
সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “দোষ কার, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সমস্যার উৎস ইন্ডিগো নিজেই। অন্য কোনও এয়ারলাইন্স এ রকম সঙ্কটে পড়েনি (Not Could Be, It Will Be, Aviation Minister On Action Against IndiGo)।”
মন্ত্রী জানান, নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর থেকেই। অথচ স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়া, ভিস্তারা—কোনও সংস্থায় এমন অচলাবস্থা দেখা যায়নি। তাই তাঁর কথায়,
“সমস্যাটা নিয়ম নয়, সমস্যা ইন্ডিগোর ভিতরেই।”
একই সঙ্গে নায়ডুর দাবি, মেট্রো বিমানবন্দরগুলিতে জট অনেকটাই কমেছে। “দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাইয়ে ব্যাকলগ প্রায় নেই। আজ রাতের মধ্যেই বাকিগুলিও স্বাভাবিক হবে। ইন্ডিগো আগামিকাল সীমিত পরিষেবা চালু করবে, দু’-এক দিনের মধ্যে পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরবে,”—বলেন তিনি।
ইতিমধ্যেই সংস্থার বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বিমান মন্ত্রক। কোন স্তরে গলদ, কে দায়ী—সবই খতিয়ে দেখা হবে। ইন্ডিগোর প্রস্তুতির অভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নায়ডুর সাফ উত্তর—
“আমরা সব এয়ারলাইনকে আগেই জানিয়েছি, নিয়মিত আলোচনাও হয়েছে। এয়ারবাস A320-এর বিষয়ে ইএএসএ–র নির্দেশ মাত্র এক সপ্তাহে ৩২৩টি বিমানে সম্পন্ন হয়েছে—একটিও সমস্যা ছাড়াই। তাহলে ইন্ডিগোই বা পারল না কেন?”
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অ্যাকশন ‘হতে পারে’—এ কথা নয়। অ্যাকশন হবেই। এ রকম ঘটনা চলতে দেওয়া যাবে না। যাত্রীই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত রিপোর্টে নির্ভর করবে। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সুর থেকেই পরিষ্কার—এই বিপর্যয়ের দায় এ বার কোনও ভাবেই ঝেড়ে ফেলতে পারবে না দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা।