মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় নিরাপত্তা, প্রস্তুতি, ভিড়—সব মিলিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 6 December 2025 08:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা—শুক্রবার রাত থেকেই সাজো সাজো রব। সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) উদ্যোগে মসজিদ শিলান্যাস ঘিরে টানটান উত্তেজনা। মরাদিঘি মোড়ের বিশাল মাঠে চলছে জোর প্রস্তুতি, আর সেই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ মেনে নিরাপত্তায় নেমেছে পুলিশ–প্রশাসন (administration for the security of Humayun's mosque foundations)।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মঞ্চ বাঁধার কাজ চলেছে। নজরদারিতে কুইক রেসপন্স টিম, র্যাফ, ভিলেজ পুলিশ থেকে মহিলা কনস্টেবল—সবাই। মাঠের চারপাশে টহল গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদেরও।
মঞ্চ, অতিথি, বিরিয়ানি—মহা আয়োজন
হুমায়ুনের দাবি, শনিবার দুপুর ১২টায় শুরু হবে মূল শিলান্যাস অনুষ্ঠান। তার আগে সকাল থেকেই জমবে আচার–অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, দেশের নানা জায়গা থেকে ধর্মগুরুদের আগমন শুরু হয়ে গিয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৬০–৭০ লক্ষ টাকার আয়োজন, ২০০০–৩০০০ স্বেচ্ছাসেবক মাঠে, রান্নার দায়িত্বে ৭টি কেটারিং সংস্থা, তৈরি হচ্ছে ৪০ হাজার ‘শাহি বিরিয়ানি’। মঞ্চ তৈরিতে ব্যয় ১০ লক্ষ টাকা। প্রশাসনের পাশাপাশি হুমায়ুন নিজস্ব উদ্যোগেও ভিড় সামলানোর দায়িত্বে রেখেছেন স্বেচ্ছাসেবকদের।
কত লোক হবে? হুমায়ুনের মতে, ২৫ বিঘার জমিতে মসজিদের শিলান্যাসে জড়ো হবেন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ।
ট্রাফিকই প্রধান চিন্তা: নজরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক
মসজিদ শিলান্যাসের ভিড় যাতে উত্তর–দক্ষিণবঙ্গের ‘লাইফলাইন’ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ককে স্তব্ধ না করে—এটাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। পরিস্থিতি সামলাতে থাকছে বিশাল বাহিনী।
জেলা পুলিশের তথ্য, দু’জন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক, ৩০ জন ডিএসপি, ১০০ ইন্সপেক্টর, ২০০ সাব–ইন্সপেক্টর/এএসআই, কনস্টেবল, লেডি কনস্টেবল, সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ থাকবে। এছাড়াও গোয়েন্দা বিভাগের ৩০ জন আধিকারিক। সবমিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবে।
শুক্রবার রাতে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা গিয়ে দেখেছেন মঞ্চস্থল। হুমায়ুনের সঙ্গে কথা বলেও এসেছে পুলিশ। হুমায়ুনের কথায়, “পুলিশের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি। লাখ তিনেক লোক তো হবেই।”
একনজরে শনিবারের সূচি
সকাল ৮টা – অতিথিদের আগমন। সৌদি আরবের দুই ক্কারীর বিশেষ কনভয়ে আগমন
সকাল ১০টা – কোরান তেলাওয়াত
দুপুর ১২টা – শিলান্যাসের মূল অনুষ্ঠান
দুপুর ২টো – খাওয়াদাওয়া
বিকেল ৪টার মধ্যে – মাঠ ফাঁকা করা
মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে বেলডাঙায় নিরাপত্তা, প্রস্তুতি, ভিড়—সব মিলিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।একদিকে ‘বাবরি মসজিদ’ নাম ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, অন্যদিকে বিশাল জনসমাগম ও প্রশাসনের সতর্কতা—শনিবারের সূচি কতটা নির্বিঘ্নে শেষ হয়, সেদিকেই নজর রাজ্যজুড়ে।