গত কয়েকদিন ধরে মুম্বই, হায়দরাবাদ, গুয়াহাটি-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। শুধু শনিবারই ১০০-র বেশি বিমান বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 December 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক সপ্তাহ ভয়ংকর বিশৃঙ্খলার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! রবিবার অর্থাৎ আজকের মধ্যেই ১ হাজার ৫০০টি বিমান চালু করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিমান সংস্থা জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই নেটওয়ার্কের ৯৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যাবে বলেই আশাবাদী তারা।
ইন্ডিগো বিপর্যয়
গত কয়েকদিন ধরে মুম্বই, হায়দরাবাদ, গুয়াহাটি-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। শুধু শনিবারই ১০০-র বেশি বিমান বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্থাটি গত শুক্রবার বড়সড় 'সিস্টেম রিবুট' করে। এর ফলে ৫ ডিসেম্বর ইন্ডিগো মাত্র ৭০০-র কিছু বেশি বিমান চালায়। রিবুট চলাকালীন বহু রুটে পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে একদিকে বাতিল বিমান, অন্যদিকে সময় বদল- সব মিলিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
কেন রিবুট জরুরি ছিল?
ইন্ডিগো জানিয়েছে, একটানা সমস্যা চলতে থাকায় নেটওয়ার্ক, সময়সূচি ও স্টাফ রস্টার নতুন করে সাজানো ছাড়া উপায় ছিল না। তাই একদিনের জন্য এত সংখ্যায় বিমান বাতিল করে পুরো সিস্টেম রিসেট করা হয়। সংস্থার দাবি, এই পদক্ষেপের পর শনিবার থেকে পরিষেবা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে।
রবিবারের মধ্যে ১,৫০০ বিমান
শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানায়, রবিবার থেকেই তারা সারাদিনে ১,৫০০-র বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে বলে আশা করছে। একই সঙ্গে জানানো হয়—
একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছে এই অসুবিধার জন্য ক্ষমা চেয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে খুব শীঘ্রই পুরো নেটওয়ার্কে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।
আগের তুলনায় শনিবারই বাতিল হওয়া বিমানের সংখ্যা কমে ৮৫০-র নীচে নেমেছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক শনিবার ইন্ডিগোকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছে, বাতিল হওয়া সব বিমানের রিফান্ড (IndiGo flight refund) প্রক্রিয়া রবিবার রাত ৮টার মধ্যে যে কোনও পরিস্থিতিতেই শেষ করতে হবে। সময়সীমা মানতে ব্যর্থ হলে নিয়ম মেনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু তাই নয়, ইন্ডিগোকে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের সহায়তার জন্য ‘ডেডিকেটেড প্যাসেঞ্জার সাপোর্ট অ্যান্ড রিফান্ড ফেসিলিটেশন সেল’ তৈরি করতে হবে। এই বিশেষ সেলই সরাসরি যোগাযোগ করবে যাত্রীদের সঙ্গে এবং নিশ্চিত করবে যাতে বারবার যাত্রীদের টাকা ফেরত পেতে বারবার যোগাযোগ করতে না হয়। রিফান্ড এবং বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থা দু’টোই দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
অন্যদিকে, ইন্ডিগো-র সিইও পিটার এলবার্সকে (IndiGo CEO Pieter Elbers) শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (DGCA show cause notice IndiGo CEO)। 'এত বড় বিপর্যয়ের দায় এড়াবেন কীভাবে?' সিইও-কে সরাসরি প্রশ্ন ডিজিসিএ-র।