মারাঠা মিলিটারি ল্যান্ডস্কেপের অধীন ১২টি দুর্গ হল, সালহের, শিবনেরি, লোহগড়, খান্ডেরি, রায়গড়, রাজগড়, প্রতাপগড়, সুবর্ণদুর্গ, পানহালা, বিজয় দুর্গ এবং সিন্ধুদুর্গ। এগুলি মহারাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পড়ে। একমাত্র জিঞ্জি দুর্গ রয়েছে তামিলনাড়ু রাজ্যে।

মারাঠাদের বিশাল ঐতিহ্য-পরম্পরা ও ইতিহাস এখন থেকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে যাবে।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪৭-তম প্যারিস অধিবেশনে শুক্রবার ভারতের ‘মারাঠা সাম্রাজ্যের অধীন দুর্গ’গুলিকে (Maratha Military Landscapes of India) ইউনেস্কোর (UNESCO) ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের (World Heritage Site) শিরোপা দিল। এর সঙ্গে এই দুর্গগুলির মিলিত খেতাব দেশের ৪৪-তম আন্তর্জাতিক দ্রষ্টব্য বলে ইউনেস্কোর খাতায় নাম তুলল। মারাঠা মিলিটারি ল্যান্ডস্কেপের অধীন ১২টি দুর্গ হল, সালহের, শিবনেরি, লোহগড়, খান্ডেরি, রায়গড়, রাজগড়, প্রতাপগড়, সুবর্ণদুর্গ, পানহালা, বিজয় দুর্গ এবং সিন্ধুদুর্গ। এগুলি মহারাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পড়ে। একমাত্র জিঞ্জি দুর্গ রয়েছে তামিলনাড়ু রাজ্যে।
মারাঠা সাম্রাজ্য ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের আমলে কীভাবে পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের এক বিরাট অংশ জুড়ে ছিল, এই ইতিহাস ও খেতাবি মুকুট তারই নিদর্শন। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মুকুট মাথায় ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন।
ফড়নবিশ বলেন, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ভক্ত-অনুগামীদের আমি অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে এই দুর্গগুলিকে মনোনীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত এই দুর্গগুলি এখন থেকে দেশী-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়াবে। মারাঠাদের বিশাল ঐতিহ্য-পরম্পরা ও ইতিহাস এখন থেকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে যাবে।
১৭ থেকে ১৯ শতক জুড়ে মারাঠা সাম্রাজ্যের আধিপত্য এক বিরাট অংশ জুড়ে ছিল। মারাঠা শক্তির বিকাশ দেখে প্রবল প্রতিপত্তির মোঘল সাম্রাজ্যেও গেল গেল রব উঠে গিয়েছিল। দুর্গগুলির ইতিহাস, সংস্কৃতি, নির্মাণ কারিগরি ও স্থাপত্য দেখে হেরিটেজ সাইট হিসেবে এগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শিবনেরি, লোহগড়, রায়গড়, সুবর্ণদুর্গ, পানহালা, বিজয়দুর্গ, সিন্ধুদুর্গ ও জিঞ্জি দুর্গ ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের দ্বারা সংরক্ষিত।
সালহের, রাজগড়, খান্ডেরি ও প্রতাপগড় সংরক্ষিত ডিরেক্টরেট অফ আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউজিয়ামসের অধীনে। এই দফতর মহারাষ্ট্র সরকারের অন্তর্গত। দুর্গগুলি ভৌগোলিক ও যুদ্ধকৌশলের দিক থেকে অনন্য। যেমন- সালহের, শিবনেরি, লোহগড়, রায়গড়, রাজগড় ও জিঞ্জি দুর্গ পার্বত্য জঙ্গল এলাকায় অবস্থিত। অন্যদিকে, প্রতাপগড় দুর্গ ঘন জঙ্গলের ভিতর রয়েছে, এই কারণে তাকে পার্বত্য জঙ্গলে ঘেরা দুর্গ বলা হয়। বিজয়দুর্গ একেবারে সমুদ্রের কিনারে। খান্ডেরি, সুবর্ণদুর্গ ও সিন্ধুদুর্গের চারধার ঘেরা সমুদ্রে। এগুলিকে দ্বীপদুর্গ বলা হয়।