গত বছরের স্মৃতি উস্কে দিয়ে কি ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর (Operation Sindoor 2.0) পথে হাঁটতে চলেছে ভারত?

অপারেশন সিঁদুর কি সময়ের অপেক্ষা?
শেষ আপডেট: 26 February 2026 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের স্মৃতি উস্কে দিয়ে কি ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর (Operation Sindoor 2.0) পথে হাঁটতে চলেছে ভারত? বৃহস্পতিবার পশ্চিমী কমান্ডের শীর্ষ সেনাকর্তার (Army Official) মন্তব্যে সেই জল্পনাই তুঙ্গে উঠল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজকুমার কাটিয়ারের সাফ কথা, “পাকিস্তান (Pakistan News) যদি আবারও ভারতকে বাধ্য করে, তবে এবারের প্রত্যাঘাত হবে গতবারের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা সময় বলবে, কিন্তু আমাদের জবাব যে আগের চেয়েও অনেক বেশি জোরালো হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।”
গত বছরের সেই রণক্ষেত্র
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলায় (Pahalgam Terror Attack) ২৬ জন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। তার প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শুরু করে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (Kashmir) একাধিক জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালায় ভারত। টানা চার দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই পক্ষ।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাটিয়ারের দাবি, “অপারেশন সিঁদুর-এ আমরা ওদের জঙ্গিঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার পর ওরা পাল্টা হামলার চেষ্টা করেছিল। তার জবাবে আমরা ওদের সামরিক ঘাঁটি এবং এয়ার বেসগুলো গুঁড়িয়ে দিই। অবস্থা বেগতিক দেখে ওরা কেবল আমাদের কাছে নয়, বিশ্বের অন্য শক্তিধর দেশগুলোর কাছেও যুদ্ধবিরতির জন্য দরবার শুরু করেছিল। আমাদের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা ওদের নেই।”
‘প্রক্সি ওয়ার’ বনাম পরমাণু হুমকি
পাক রণকৌশলকে বিঁধে সেনাকর্তা এদিন বলেন, ১৯৭১ বা কার্গিল যুদ্ধ (Kargil War) থেকে পাকিস্তান শিক্ষা নেয়নি। সরাসরি যুদ্ধ করার ক্ষমতা হারিয়ে এখন তারা ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা প্রচ্ছন্ন যুদ্ধের আশ্রয় নিচ্ছে। তাঁর কথায়, “পাকিস্তান একটি ভঙ্গুর ও দুর্বল রাষ্ট্র। অপারেশন সিঁদুর-এর সময় তারা একদিকে যেমন পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছিল, অন্য দিকে তেমনই যুদ্ধবিরতির আর্জি নিয়ে প্রভুরাষ্ট্রগুলোর দরজায় কড়া নাড়ছিল।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, সেনার এই কড়া বার্তা আসলে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। সীমান্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারতীয় বাহিনী যে আরও বড় মাপের অপারেশনের জন্য তৈরি, জেনারেল কাটিয়ারের বক্তব্য তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।