সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, মন্দিরের হাতি বনতারায় সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই।

সিট বনতারাকে ক্লিনচিট দিয়েছে।
শেষ আপডেট: 15 September 2025 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিলায়েন্স সাম্রাজ্যের প্রধান মুকেশ আম্বানি ও নীতা আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির সাধের ‘বনতারা’ প্রকল্প সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেল। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, মন্দিরের হাতি বনতারায় সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা যদি ঘটে থাকে, তাহলে তা করা যেতে পারে। একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এর আগে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছিল।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত এদিন জানিয়েছে, সিট বনতারাকে ক্লিনচিট দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ডে চেলেমেশ্বরের নেতৃত্বে গঠিত সিট রিপোর্টে জানিয়েছে, মন্দির থেকে হাতিকে গুজরাতের কৃত্রিম জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াগত কোনও বিরোধ নেই এবং সার্বিক পদ্ধতি মেনে চলা হয়েছে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পঙ্কজ মিঠাল ও বিচারপতি পিবি বরালের বেঞ্চ অভিযোগকারীদের বলে, হাতিগুলিকে যথার্থ দেখভাল করা হচ্ছে না, এর প্রমাণ কোথায়! কীসের ভিত্তিতে আপনারা আবেদনে জানিয়েছেন যে, মন্দিরের হাতিগুলিকে বনতারায় যথোপযুক্ত পরিচর্যা করা হচ্ছে না? আবেদনকারীদের আইনজীবীকে বেঞ্চের প্রশ্ন, কীভাবে বলছেন যে, বনতারায় হাতিগুলির উপর নির্যাতন চলছে?
বনতারার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পঙ্কজ মিঠল ও পিবি বরালেকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সত্যানুসন্ধানী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল গত ২৬ অগস্ট। আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী সিআর জয়া সুকিন ও দেব শর্মা নামে এক ব্যক্তি। তাঁরা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক খবরের দৃষ্টান্ত তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রথম অভিযোগটিতে ছিল, বনতারায় চলতে থাকা অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি নজরদারি কমিটি গঠন করা হোক। এছাড়াও এখানে আটক রাখা সমস্ত হাতি ও পশুকে বন্যপ্রাণ আইন অনুযায়ী জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হোক। দ্বিতীয় আবেদনটি একটি হস্তিনী, যার নাম মাধুরী অথবা মাধবী। আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ বছর ধরে এই হস্তিনীটি কোলাপুরের একটি গ্রামের জৈন মন্দিরে ছিল। বম্বে হাইকোর্টের এক রায়ে এই হাতিটিকে বনতারায় পুনর্বাসিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্টও এই রায় বহাল রাখায় কোলাপুরে ব্যাপক প্রতিবাদ ওঠে।
বনতারার তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, আইনের অধীনে যে কোনও সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। তারাও চায় এ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও পশুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। বনতারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিটের সঙ্গে পুরো মাত্রায় সহযোগিতা করা হবে। কোনও অনুমানের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পশুদের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য যেন এই তদন্তকাজ চলে।