সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট জানাল, বিহারের (Bihar) নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের (SIR পদ্ধতিতে অবৈধতা প্রমাণিত হলে বিহারের বিশেষ রিভিশন পুরোপুরি বাতিল হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 September 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার (Bihar) বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision - SIR) নিয়ে বড় মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যদি নির্বাচনী কমিশনের গৃহীত পদ্ধতিতে কোনও রকম অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তবে পুরো প্রক্রিয়াটিই বাতিল করে দেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুর্যকান্ত এবং জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এদিন এই পর্যবেক্ষণ করে। আদালত স্পষ্ট করেছে, আপাতত তারা ধরে নিচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন এবং বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনেই কাজ করছে। তবে কোনও গাফিলতি বা বেআইনি পদক্ষেপ সামনে এলে সংশোধন প্রক্রিয়া মান্যতা পাবে না।
শুধু তাই নয়, শীর্ষ আদালত আজ এও জানিয়েছে, বিহারের এসআইআর মামলায় টুকরো টুকরো করে নানারকম মতামত তারা এখনই দিতে রাজি নয়। কারণ এই মামলার রায় শুধুমাত্র বিহারের জন্য নয়, সারা দেশের নির্বাচনী তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার উপরেই প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় হবে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে। এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর। সব ঠিক থাকলে, সেদিনই বিশেষ রিভিশন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে আদালত চূড়ান্ত রায় দেবে।
বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এই রিভিশন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের হুঁশিয়ারির ফলে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগে বিহার এসআইআর মামলায় ১২ তম নথি হিসেবে আধার কার্ড গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত তার আদেশে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তবে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটারদের জমা দেওয়া আধার কার্ডের সত্যতা যাচাই করার অধিকারী হবেন।
এই ইস্যুতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, আধার আইন (Aadhaar Act) অনুযায়ী, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, তবে 'রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট' (Representation of People's Act)-এর ধারা ২৩(৪) অনুসারে, এটি একজন ব্যক্তির পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।
দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সিইও-কে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি এও স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ১২টি নথি ছাড়া আর কোনও নথি গৃহীত হবে না এই কাজের ক্ষেত্রে।