দিল্লিতে সিইও-দের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পুজোর পরেই বাংলা-সহ দেশে এসআইআর হতে পারে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 10 September 2025 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর ৬-৭ মাস আছে এরা। বাংলায় এসআইআর (SIR) সম্পূর্ণ হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কেউ বাঁচাতে পারবে না। কোনও ভাবেই ভোটে জিততে পারবেন না তিনি। আসানসোলের জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি এও মনে করিয়ে দিলেন, কীভাবে গত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর কাছে হেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিল্লিতে সিইও-দের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পুজোর পরেই বাংলা-সহ দেশে এসআইআর হতে পারে। দিল্লিতে কমিশনের পক্ষ থেকে এদিনের বৈঠকে সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। তবে দেশজুড়ে একযোগে এই প্রক্রিয়া চালু হবে নাকি যেসব রাজ্যে আগামিবছর বিধানসভা ভোট রয়েছে, সেখানে আগে শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই প্রসঙ্গেই শুভেন্দুর বক্তব্য, বাংলায় এসআইআর আটকাতে পারবে না তৃণমূল সরকার (TMC)। এসআইআর হবেই এবং তা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর দলকে হারা থেকে কেউ আটকাতে পারবে না। শুভেন্দুর অভিযোগ, বাংলার নির্বাচনে তৃণমূল জিতেই আসছে ভুয়ো ভোটারদের জন্য। এসআইআর হলে সেইসব ভুয়ো ভোটাররা রাজ্য, দেশছাড়া হবে। ফলে তৃণমূলের বিসর্জন হবেই।
এসআইআর প্রসঙ্গে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং (Arjun Singh) দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের (Tmc leaders) ব্লক লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। সেই দাবিকেই মান্যতা দিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাও বলেন, আগেই এই ইস্যুতে তাঁরা অভিযোগ তুলেছিলেন। আগামী সপ্তাহে একটি তালিকাও কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
বুধবারই সংবাদমাধ্যমে শুভেন্দু দাবি করেন, ''বিভিন্ন জেলাশাসকের দফতর থেকে প্রায় ৮০ হাজার বিএলও-র (BLO) নাম সংগ্রহ করেছি। তার ওপরে কাজ চলছে। অনুমান করা হচ্ছে কমপক্ষে ১০ হাজার নাম উঠে আসবে। আগামী সপ্তাহে এই তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সাংবাদিক বৈঠকও করা হবে। ইতিমধ্যে ৩-৪ হাজার পোক্ত নাম পাওয়া গেছে।'' আসানসোলের সভা থেকেও এই বিষয়ে তৃণমূলকে নিশানা করেন তিনি।
এই সভা থেকে ফের একবার 'নো এসআইআর, নো ইলেকশন' স্লোগান তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট কথা, এসআইআর করতেই হবে তাহলেই বাংলায় ভুয়ো ভোটার, বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা থাকবে না, স্বচ্ছ ভোট হবে।
রাজ্যে সম্প্রতি বালি পাচারের তদন্তে ইডি যে টাকা উদ্ধার করেছে সেই নিয়েও তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ কথা - ভাইপো অবধি টাকা গেছে। রাজ্যজুড়ে শুধু লুট চলছে। পুলিশেরও কোনও ভূমিকা নেই। যারা অভিযুক্ত, তাদেরই গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ায় তারা।