রাজ্যে সম্প্রতি বালি পাচারের তদন্তে ইডি যে টাকা উদ্ধার করেছে সেই নিয়েও তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 10 September 2025 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের (Tmc leaders) ব্লক লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং (Arjun Singh)। সেই দাবিকেই মান্যতা দিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, আগেই এই ইস্যুতে তাঁরা অভিযোগ তুলেছিলেন। আগামী সপ্তাহে একটি তালিকাও কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
এদিন সংবাদমাধ্যমে শুভেন্দু দাবি করেন, ''বিভিন্ন জেলাশাসকের দফতর থেকে প্রায় ৮০ হাজার বিএলও-র (BLO) নাম সংগ্রহ করেছি। তার ওপরে কাজ চলছে। অনুমান করা হচ্ছে কমপক্ষে ১০ হাজার নাম উঠে আসবে। আগামী সপ্তাহে এই তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে সাংবাদিক বৈঠকও করা হবে। ইতিমধ্যে ৩-৪ হাজার পোক্ত নাম পাওয়া গেছে।''
পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ''আমাদের বিরোধিতার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করে নেই। এমনই কোনও জায়গা থেকে অভিযোগ এলে বিএলও বদলে দিচ্ছে। আসানসোলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এবার কমিশনের সক্রিয়তা আপ-টু দ্য মার্ক না হলেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।''
অর্জুন সিং ঠিক কী দাবি করেছেন
প্রাক্তন সাংসদের অভিযোগ, তৃণমূল শিক্ষা সেলের নেতা বিজেশ প্রসাদ, নেত্রী রাজলক্ষ্মী সাউ ও সিউজি সাউয়ের মতো একাধিক তৃণমূল কর্মীকে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও স্কুলের নন-টিচিং স্টাফরাও এই তালিকায় রয়েছেন। যা নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে দাবি তাঁর।
সেইসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন ভুয়ো ভোটারের অভিযোগও। অর্জুনের দাবি, ভাটপাড়ায় অন্তত ৯ হাজার ৩৭৭ জন ভুয়ো ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে কেউ মারা গিয়েছেন, কেউ রাজ্যের বাইরে থাকেন, আবার কারও নাম একাধিক ভোটার তালিকায়।
রাজ্যে সম্প্রতি বালি পাচারের তদন্তে ইডি যে টাকা উদ্ধার করেছে সেই নিয়েও তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ কথা - ভাইপো অবধি টাকা গেছে। রাজ্যজুড়ে শুধু লুট চলছে। পুলিশেরও কোনও ভূমিকা নেই। যারা অভিযুক্ত, তাদেরই গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ায় তারা।
প্রসঙ্গত, মেদিনীপুরে (Medinipur) সৌরভ রায় নামের এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি (Search Operation) চালায় ইডি। সেই অভিযানেই বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয় ৬৫ লক্ষ টাকা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নথি ও মোবাইল ফোনও।
একই দিনে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের (Gopiballavpur) নয়াবসানে জিডি মাইনিংয়ের কর্মী শেখ জহিরুল আলির বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় আরও ২৫ লক্ষ টাকা।