২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভায় এনডিএ এবার পেয়েছে ২০২টি আসন, যা তাদের অবস্থানকে করেছে অত্যন্ত দৃঢ়। এমন শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
.jpg.webp)
নীতীশ কুমার
শেষ আপডেট: 20 November 2025 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের রাজনীতিতে (Bihar Politics) এক অনন্য অধ্যায়ে পৌঁছে গেলেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। ২০০০ সালে মাত্র সাত-আট দিনের অতি স্বল্প মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রিত্বের পর দীর্ঘ পঁচিশ বছর পেরিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী (10th Time CM) হিসেবে শপথ নিলেন। বুধবার তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে এনডিএ-র (NDA) বিধায়কদলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছিল। আজ পাটনার গান্ধী ময়দানে বিশাল অনুষ্ঠানে ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন এই নেতা।
২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভায় এনডিএ এবার পেয়েছে ২০২টি আসন, যা তাদের অবস্থানকে করেছে অত্যন্ত দৃঢ়। এমন শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০০০ সালে প্রথম অধ্যায়
নীতীশ কুমারের দশম শপথগ্রহণের মুহূর্তটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুত পর্বের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারির বিধানসভা নির্বাচনে (Bihar Elections 2000) কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ৩২৪ সদস্যের বিধানসভায় লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি পেয়েছিল ১২৪টি আসন, আর বিজেপি-সমতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) পায় ১২২টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬৩টি আসন। দুই পক্ষই সেই সীমা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।
এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যের তৎকালীন রাজ্যপাল বীনোদ চন্দ্র পান্ডে নীতীশ কুমারকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। কেন্দ্রের অটল বিহারি বাজপেয়ী সরকারের সমর্থন, এল কে আডবানি ও জর্জ ফার্নান্ডেজের সক্রিয় ভূমিকা - সব মিলিয়ে নীতীশ কুমার মার্চের ৩ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
কিন্তু সমীকরণ পুরোপুরি অন্যরকম ছিল। আরজেডি-র (RJD) ছিল ১৫৯ জন বিধায়ক, তাঁরাও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে, কিন্তু এনডিএ-র থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে। শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি, অভিযোগ ওঠে বিধায়ক টোপ দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে। এক সপ্তাহের এই অস্থিরতা কোনও পক্ষকেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১১ মার্চ নীতীশ কুমারের সরকার ভেঙে পড়ে - যা বিহারের ইতিহাসে অন্যতম ক্ষণস্থায়ী সরকার ছিল।
সংক্ষিপ্ত অধ্যায় থেকে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন
সেই ব্যর্থ অধ্যায় কাটিয়ে ২০২৫ সালে নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) তৈরি করেছেন সম্পূর্ণ এক ভিন্ন অধ্যায়। একসময়ের অনিশ্চিত মুখ্যমন্ত্রী আজ হয়ে উঠেছেন বিহারের সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক মুখ। তিনি নিজেই বলছেন, ২০০৬ সালে যেভাবে উন্নয়ন-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা শুরু হয়েছিল, এবারের মেয়াদে তা আরও গতি পাবে কেন্দ্রের সহযোগিতায়।
এনডিএ-র প্রবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা, বহু বছরের সঙ্গী দলগুলির ঐক্য, আর নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা - সব মিলিয়ে নীতীশ কুমারের সামনে খুলেছে নতুন দায়িত্বের দরজা। অতীতের ব্যর্থতা থেকে বর্তমানের আত্মবিশ্বাস, এই দু'য়ের যোগফল নিয়ে তিনি আবারও শুরু করতে চলেছেন বিহার শাসনের দশম অধ্যায়।