১৯৯৬ সালে প্রথম নোটিস দেওয়া হয়, তারপর ১৯৯৭ সালেও ফের সতর্ক করা হয়। কিন্তু এত বছরেও অবৈধ অংশ ভাঙা হয়নি। এবার ভবনের গায়ে চূড়ান্ত নোটিস টাঙিয়ে জানানো হয়েছে,আর দেরি করলে বোর্ড নিজেই ভাঙার দায়িত্ব নেবে এবং খরচ তুলবে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে।

পৈতৃক বাড়ি ভাঙার নোটিস!
শেষ আপডেট: 20 November 2025 11:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কিত আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al-Falah University) চেয়ারম্যান মহম্মদ জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকির মধ্যপ্রদেশের পৈতৃক বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠাল মহু ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড (Mhow Cantonment Board)। এই নির্মাণ ঘিরে রয়েছে একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ। মাত্র তিন দিনের মধ্যে অবৈধ অংশ সরিয়ে না ফেললে প্রশাসন সরাসরি ভাঙার কাজ শুরু করবে বলে সতর্ক করেছে বোর্ড।
মহুর মুকেরি মহল্লায় সিদ্দিকি পরিবারের চারতলা বাড়িটি স্থানীয়ভাবে 'মৌলানার বিল্ডিং' নামে পরিচিত। ১৯৯০-এর দশকে তৈরি হওয়া বাড়িটিতে বড় বেসমেন্টসহ ২৫টির বেশি জানালা রয়েছে। অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, এই বাড়ি নিয়ে বিতর্ক প্রায় তিন দশক ধরে চলছে। ১৯৯৬ সালে প্রথম নোটিস দেওয়া হয়, তারপর ১৯৯৭ সালেও ফের সতর্ক করা হয়। কিন্তু এত বছরেও অবৈধ অংশ ভাঙা হয়নি। এবার ভবনের গায়ে চূড়ান্ত নোটিস টাঙিয়ে জানানো হয়েছে,আর দেরি করলে বোর্ড নিজেই ভাঙার দায়িত্ব নেবে এবং খরচ তুলবে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে।
ঠিক এমন সময়ে এই নোটিস জারি হল, যখন সিদ্দিকি পরিবার অন্য একটি বড় মামলার কারণে দেশজুড়ে আলোচনায়। কয়েকদিন আগে বহু বছর ধরে পলাতক থাকা জওয়াদের ভাই হামুদকে (হামুদ আহমদ সিদ্দিকি) গ্রেফতার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি লুকিয়ে ছিলেন হায়দরাবাদে। ২০০০ সালের একাধিক বিনিয়োগ প্রতারণার মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, একাধিক সেনা ও এমইএসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা তুলেছিলেন, তারপর হঠাৎ গা-ঢাকা দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামুদ নিজের পরিচয় বদলে হায়দরাবাদে শেয়ার বাজার সংক্রান্ত ব্যবসা চালাতেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রতারণার মোট পরিমাণ আপাতত নথিভুক্ত ৪০ লক্ষ টাকার থেকেও বেশি হতে পারে। ২০১৯ সালে তাঁর নামে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু এতদিনে কোনও অভিযুক্তকেই ধরতে পারেনি পুলিশ।
যদিও জওয়াদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে মহুর প্রতারণা মামলাগুলিতে কোনও অভিযোগ নেই, তবুও পরিবারের ইতিহাস এবং বর্তমান ঘটনাগুলো মিলিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, জওয়াদ ৯০-এর দশকে মহুর ওই বাড়ি থেকেই প্রথমে ‘আল-ফালাহ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে একটি ফার্ম চালু করেছিলেন। পরে তিনি দিল্লিতে চলে যান। এরপর তাঁর ভাই ‘আল-ফাহাদ ফিনকম’ নামে ব্যবসা শুরু করেন, যা পরবর্তীতে প্রতারণার মামলায় জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, দিল্লির লালকেল্লাকাণ্ডে বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) তদন্তে এনআইএ-র (NIA) নজরও পড়েছে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে, কারণ মূল অভিযুক্ত জঙ্গি-চিকিৎসক উমর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন। মঙ্গলবার দীর্ঘ তল্লাশির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে গ্রেফতার করে ইডি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারকে ঘিরে চাপ আরও বাড়ছে।