দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) বিরুদ্ধে দুটি FIR দায়ের করে- প্রতারণা, নথি জালিয়াতি ও অ্যাক্রেডিটেশন সংক্রান্ত অসঙ্গতি নিয়ে।
.jpg.webp)
গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা
শেষ আপডেট: 19 November 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) পরই হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University) আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। 'হোয়াইট কলার' জঙ্গি মডিউলের (White-Collar Terrorism Module) সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে এবং প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে। মঙ্গলবারই ইডির দীর্ঘ তল্লাশির পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
জওয়াদ সিদ্দিকিকে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অপরাধমূলক ধারায় গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে ব্যক্তিগত বা পরিবার-ঘনিষ্ঠ সংস্থার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে ক্যাটারিং- অনেক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি দেওয়া হয়েছিল তাঁর স্ত্রী-সন্তানের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে।
ইডি আধিকারিকরা একদিনে দিল্লি ও ফরিদাবাদের ২৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৪৮ লক্ষ টাকার বেশি নগদ, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি। এছাড়া কয়েকটি শেল কোম্পানিরও সন্ধান পেয়েছে সংস্থা, যেগুলিকে অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ।
সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) বিরুদ্ধে দুটি FIR দায়ের করে- প্রতারণা, নথি জালিয়াতি ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত অসঙ্গতি নিয়ে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ওপর বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছিল।
দিল্লির লালকেল্লার কাছে ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিস্ফোরণ ঘটানো আত্মঘাতী বোমারু চিকিৎসক উমর উন নবি আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এমনকি তার আগে বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার শাহিন, মুজাম্মিলরাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলেই জানা গেছে।
ইডি জানিয়েছে, আল ফালাহ গ্রুপ ১৯৯০ সালের পর থেকে যে হারে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, তা তাদের আর্থিক হিসাবের সঙ্গে মিলছে না। এই অস্বাভাবিক উত্থানের নেপথ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অর্থপাচারের ছক- এমনটাই দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গজওয়াতুল হিন্দ-এর যোগ পাওয়া যায়। হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে এই 'হোয়াইট কলার' মডিউল চালানো হত বলে সন্দেহ। তল্লাশি চালিয়ে ফরিদাবাদের ভাড়া করা দুটি ঘর থেকে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।
আর্থিক লেনদেন, তহবিলের উৎস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জঙ্গি মডিউলের যোগ, সবই এখন খতিয়ে দেখছে ইডি। কর্মকর্তাদের দাবি, উদ্ধার হওয়া নথি ও নগদ টাকা থেকে স্পষ্ট- বহু বছর ধরে চলছিল বিপুল অঙ্কের অর্থপাচার এবং সেই টাকার ব্যবহার হয়েছে বেআইনি কার্যকলাপে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।