ভিডিওতে উমরকে বেশ শান্ত গলায় কথা বলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, অনেক সময় সমাজ কিছু বিষয়কে ভুলভাবে বিচার করে। আত্মঘাতী হামলা নাকি তেমনই এক বিষয়!

উমরের ভিডিও বার্তা ফাঁস
শেষ আপডেট: 18 November 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) আতঙ্ক এখনও কাটেনি। তদন্ত চলছে, একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন আত্মঘাতী হামলায় জড়িত উমর উন নবির একটি ভিডিও। তদন্তকারীদের অনুমান, ভিডিওটি হয়তো বিস্ফোরণের আগেই বানানো হয়েছে, যেখানে উমরকে আত্মঘাতী হামলার (Suicidal Attack) পক্ষে ব্যখ্যা দিতে শোনা গেছে।
উমর উন-নবি পেশায় ডাক্তার ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চরমপন্থী ভাবধারায় জড়িয়ে পড়েছিলেন, এমনটাই জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলার ঠিক আগে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেন উমর (Red Fort Blast Accused Umar Un Nabi)। এতে তিনি আত্মঘাতী হামলাকে 'ভুল বোঝা হয়' বলে দাবি করেন। অর্থাৎ, এই ধরনের হামলাকে সমর্থনযোগ্য কাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
ভিডিওতে উমরকে স্পষ্ট ইংরেজিতে বেশ শান্ত গলায় কথা বলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, "অনেক সময় সমাজ কিছু বিষয়কে ভুলভাবে বিচার করে। আত্মঘাতী হামলা নাকি তেমনই এক বিষয়।" তাঁর মতে, যেভাবে এই হামলাগুলিকে দেখা হয়, তা সঠিক নয়। এই বক্তব্য থেকেই তদন্তকারীরা বুঝেছেন, উমর হামলার আগে নিজের চরমপন্থী বিশ্বাসকে যুক্তিযুক্ত হিসেবে দেখাতে চাইছিলেন।
দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় (Delhi Red Fort Blast) তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে জানা গেছে, ভিডিওতে আরও কিছু অংশ রয়েছে যেখানে উমর হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে খানিক ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে পুরো ভিডিও বিশ্লেষণ করে তবেই তারা সঠিক ব্যাখ্যা দেবেন। পুলিশ ও এনআইএ-র দাবি, দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানো কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিলেন অভিযুক্ত। হামলার আগে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করা সেই পরিকল্পনারই অংশ।
উমর উন নবি কেন চিকিৎসা পেশা ছাড়েন, কীভাবে তিনি এই পথে জড়িয়ে পড়েন, তা জানতে তাঁর পুরনো যোগাযোগ ও অনলাইন কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উগ্রপন্থী প্রচারমূলক কনটেন্ট দেখতেন এবং গোপনে তা প্রচারও করতেন।
১০ নভেম্বর রাতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের পর থেকেই গোটা দেশ সতর্ক হয়ে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, এনএসজি এবং এনআইএ। পরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে উমরের মোবাইল থেকে উঠে আসে এই ভিডিও। সূত্রে খবর, ভিডিও পাওয়ার পর তদন্ত আরও গতি পেয়েছে, কারণ এটি অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার একটি সরাসরি প্রমাণ।
পুলিশ জানাচ্ছে, উমরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর অতীত সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, কারা তাঁকে প্রভাবিত করেছিল, এই সবই এখন তদন্তের মূল ফোকাস।
তদন্তকারীদের মতে, ভিডিওটি স্পষ্ট করে দেয়, হামলা করার আগে থেকেই উমর তা নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ছিল এবং সমাজের সামনে নিজের কাজকে সঠিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিল। তাই স্পষ্টতই এই ভিডিও এখন দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠেছে।