দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে মৃত উমর মোহাম্মদের আগের গতিবিধি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 November 2025 23:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে মূল চক্রী বলে মনে করা হয় চিকিৎসক উমর মোহাম্মদ ওরফে উমর-উন-নবি। বিস্ফোরণের পর উমরের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণের আগেই উমর এই ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন এবং তাঁর ভাইকে দিয়ে যাওয়া মোবাইলেই এটি পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে উমর পুলওয়ামার বাড়িতে যান এবং সেখান থেকে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কর্মস্থলে ফেরার আগে দু'টি ফোনের মধ্যে একটি ভাইকে দিয়ে আসেন। এরপর উমরের ভাই একে একে তাঁর সহকর্মীদের গ্রেফতারের খবর পান।
৭ নভেম্বর উমরের সহকর্মী চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাথের শ্রীনগরে জঙ্গি গোষ্ঠীর পোস্টার সাঁটাতে গিয়ে ধরা পড়েন। ৯ নভেম্বর ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হন চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল। এরপর শাহিন শাহিদের গ্রেফতারের খবর পান তিনি।
এই গ্রেফতারের খবরে ভীত হয়ে উমরের ভাই বাড়ির কাছে একটি পুকুরে সেই মোবাইলটি ফেলে দেন। তদন্তকারীরা যখন উমরের দুটি বন্ধ ফোনে আড়ি পাতেন এবং জানতে পারেন একটি ফোন শেষবার দিল্লিতে ও অন্যটি পুলওয়ামায় ছিল, তখন তাঁরা উমরের বাড়িতে যান। উমরের ভাই ফোনের কথা স্বীকার করেন এবং তদন্তকারীদের দাবি, পুকুর থেকে সেই ফোনটি উদ্ধার করার পরই দিন কয়েক পর ভিডিওটি হাতে আসে।
উদ্ধার হওয়া ভিডিওতে উমর মোহাম্মদকে একটি ঘরে একা বসে থাকতে দেখা যায়। এরপর তিনি 'আত্মঘাতী বোমারু'দের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শুরু করেন। উমরকে বলতে শোনা যায়, আত্মঘাতী বোমারুদের নিয়ে সমাজে ভুল ধারণা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, যাঁদের আত্মঘাতী বোমারু বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা আসলে আত্মঘাতী বোমারু নন, তাঁরা ইসলামের এক একজন শহিদ।
'মার্টারডম অপারেশন' সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উমর দাবি করেন, "আত্মঘাতী হামলার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, যখন কোনও ব্যক্তি এটা মেনে নেন যে তাঁর মৃত্যু একটি নিশ্চিত সময়, নিশ্চিত স্থানে হবে, তখন তাঁকে একটি ভয়ানক মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তখন তিনি এটাই মেনে চলেন যে মৃত্যুই তাঁর একমাত্র গন্তব্য... আর তাঁকে শুধু আত্মঘাতী বোমারু বলেই দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। আর এখানেই আত্মঘাতী বোমারু বা হামলা নিয়ে ভুল ধারণা সমাজের।" তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, উমর মোহাম্মদ এই ভিডিওর মাধ্যমে মগজধোলাই বা ভুল প্রচারের চেষ্টা করেছিলেন।