
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 2 April 2025 23:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১১-য় বাংলায় বিধানসভা ভোটে সিপিএম ধরাশায়ী হওয়ার পর থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে বাম রাজনীতি ও সিপিএমের প্রভাব ক্রমশই ক্ষয়িষ্ণু। এই পরিস্থিতি কেন হচ্ছে, কেনই বা জনসমর্থন ফিরছে না? পার্টি কংগ্রেসে তার উত্তর খোঁজার পরামর্শ দিলেন বর্তমানে সিপিএম পলিটব্যুরোর অন্তর্বর্তী সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত।
বুধবার থেক তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে শুরু হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া মার্কসবাদীর সর্বভারতীয় কংগ্রেস (CPIM Party Congress)। চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এদিন কারাতের সুরে জনসমর্থন নিয়ে মন্তব্য করেছেন সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিআইএমএল লিবারেশনের দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আরএসপির মনোজ ভট্টাচার্য এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবরাজনও। জনসমর্থন ফেরাতে প্রত্যেক বক্তায় বাম ঐক্যের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন।
বিজেপি এবং সংঘের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার কথা বলে কারাতের প্রশ্ন, "আমরা বিজেপি, আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলি...কিন্তু শুধুমাত্র ভোটের সময়। আরএসএস সাংস্কৃতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছে। কিন্তু, আমরা কোথায় সেখানে?"
সূত্রের খবর, আগামী কয়েকদিন পার্টি কংগ্রেসে এ নিয়েই আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। দলের প্রথমসারির এক নেতার কথায়, "দলের রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি সবই জনতা। কিন্তু, আমাদের নিজস্ব শক্তি সেভাবে বিকশিত হতে পারেনি। এর জন্য কিছু কারণ ও বিষয়কে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। পার্টি কংগ্রেসে এ বিষয়য়েই পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে।"
এদিন দলের পতাকা উত্তোলন করে পার্টি কংগ্রেসের সম্মেলনের সূচনা করেন বর্ষীয়ান বাম নেতা বিমান বসু। তবে শুরু থেকেই বাংলার ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে বঙ্গ সিপিএমের অন্দরে।
পার্টি কংগ্রেস পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নিয়েই গঠিত হয় সভাপতিমণ্ডলী। মীনাক্ষী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নন। তা সত্ত্বেও এবারে পার্টি কংগ্রেসের পরিচালনায় গঠিত সভাপতি মণ্ডলীতে স্থান পেয়েছেন তিনি। যা থেকে দলেরই অনেকে মনে করছেন, এবারে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও জায়গা পেতে পারেন মীনাক্ষী অর্থাৎ 'পদোন্নতি'।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দল যে আর প্রবীণে আটকে নেই, তরুণদেরও প্রাধান্য দিচ্ছে, মীনাক্ষীকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দিলে সেই বার্তাও দেওয়া যাবে।