ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার করে তারা নিজেদের ব্যাঙ্কের কর্মী পরিচয় দিত। গ্রাহকদের ফোন করে বলা হত, তাঁদের ক্রেডিট কার্ডের ‘লিমিট আপডেট’ বা ‘বাড়িয়ে’ দেওয়া হবে। সেই প্রলোভন দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ওই এপিকে (APK) ফাইল ডাউনলোড করতে রাজি করানো হতো।

শেষ আপডেট: 10 February 2026 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বাড়ানোর লোভ (Credit card fraud Delhi) দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফাইল (WhatsApp APK scam) পাঠানো হয়েছিল এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে। তিনি সেই ফাইল ডাউনলোড করতেই কয়েক মিনিটের মধ্যে হ্যাক হয়ে যায় তাঁর মোবাইল ফোন। এরপর তাঁর কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড (fake Kotak Mahindra Bank scam) ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা করা হয় মোট ৭৫,৬৯৪ টাকার।
ঘটনাটি বুঝে ওঠার আগেই টাকাগুলি খরচ হয়ে যায়। দিল্লির এই চাঞ্চল্যকর সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ (Delhi Police)।
কীভাবে কাজ করছিল জালিয়াত চক্র
তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের সদস্যদের কেউ কেউ আগে একটি ক্রেডিট কার্ড সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্রে গ্রাহকদের তথ্য তাঁদের হাতে ছিল। সেই তথ্যের অপব্যবহার করেই তারা তৈরি করে কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের একটি ভুয়ো মোবাইল অ্যাপ, আসলে যা ছিল জালিয়াতির মূল অস্ত্র, একটি এপিকে (APK) ফাইল।
ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার করে তারা নিজেদের ব্যাঙ্কের কর্মী পরিচয় দিত। গ্রাহকদের ফোন করে বলা হত, তাঁদের ক্রেডিট কার্ডের ‘লিমিট আপডেট’ বা ‘বাড়িয়ে’ দেওয়া হবে। সেই প্রলোভন দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ওই এপিকে (APK) ফাইল ডাউনলোড করতে রাজি করানো হতো।
ভুক্তভোগী যখন সেই ফাইল ইনস্টল করতেন, তখনই প্রতারকদের হাতে চলে যেত তাঁর মোবাইল ফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ-সহ ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য।
এরপর জেপ্টো (Zepto)-র মতো অ্যাপ ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনা হত। সেই সামগ্রী ডেলিভারি নেওয়া হত ফরিদাবাদে। পরে সেই পণ্য ওএলএক্স (OLX)-সহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করে দেওয়া হত।
কীভাবে ধরা পড়ল চক্র
৪ ফেব্রুয়ারি এফআইআর দায়ের হওয়ার পর সাইবার থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও লোকেশন ট্র্যাকিং করে দেখা যায়, কেনা সামগ্রীর ডেলিভারি হয়েছে ফরিদাবাদের সূরজকুণ্ড এলাকার লক্করপুর গ্রামে।

সেই সূত্র ধরেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের নাম - অভিষেক কুমার ঝা (২৪), আশীষ কুমার ওঝা (২৩), বিবেক কুমার ওরফে মনু (৩৭) এবং ইকরার (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার বা বন্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।
সাইবার সুরক্ষায় কী করবেন