সঙ্ঘের নীতি আদর্শ এবং শতবর্ষের নানা সাফল্যের উল্লেখ করে ভাগবত বলেছেন বৈশ্বিক সম্পর্কে ভারতকে আরও অনেক পথ এগোতে হবে।

মোদী ও ভাগবত।
শেষ আপডেট: 2 October 2025 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগপুরে চলছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান। এবারের বিজয়া দশমীতেই সংগঠনের শতবর্ষ পালন করছে আরএসএস। যদিও হিন্দু জাতীয়তাবাদী এই সংগঠন শতবর্ষে পা দিয়েছে গত ২৭ সেপ্টেম্বর। তবে একশো বছর আগে বিজয়া দশমীর দিনে যাত্রা শুরু হয়েছিল আরএসএসের।
শতবর্ষের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনি বলেছেন আরএসএস এমন এক সংগঠন যারা কখনও জাতপাতের বিভাজন করে না। ভারতের সমস্ত জাতিকে এক সূত্রে গেঁথেছে এই সংগঠন।
বিজয়া দশমীর পুজো শেষে ভাষণ দেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। সঙ্ঘের নীতি আদর্শ এবং শতবর্ষের নানা সাফল্যের উল্লেখ করে ভাগবত বলেছেন বৈশ্বিক সম্পর্কে ভারতকে আরও অনেক পথ এগোতে হবে। তিনি এই প্রসঙ্গে পহেলগামের হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
ভাগবত বলেন পহেলগামের ঘটনা আমাদের বুঝতে শিখিয়েছে কোন দেশ ভারতের মিত্র আর কারা শত্রু। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেই ভাগবত এই মন্তব্য করেছেন। পহেলমের ঘটনার পরেই ভারত পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায়। ভারতের লাগাতার আক্রমণের জবাবে পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতির বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু সব হিসাব গুলিয়ে দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করে বসেন, তাঁর প্রশাসনের তৎপরতায় ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়।
শুধু তাই নয় যুদ্ধ থামাতে চড়াহারে শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তান ট্রাম্পের দাবি মেনে নিলেও তা অগ্রাহ্য করেছে ভারত। আমেরিকার এই অবস্থানকে চূড়ান্ত ভারত বিরোধিতা এবং পাকিস্তানের পাশে থাকার বার্তা বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
অপারেশন সিঁদুরের পর ২৩টি দেশে ভারত সরকার সংসদীয় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল। কূটনৈতিক মহলের খবর সব দেশের কাছ থেকে ভারত ইতিবাচক সাড়া পায়নি। নয়াদিল্লি পহেলগামের ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও কোন,ও দেশই তাতে গলা মেলায়নি। বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে মোদী সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে তুলে ধরেছে। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে ভাগবত পহেলগাম ইস্যুতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলির ভূমিকা নিয়ে ঘুরিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদি সরকারকেই বার্তা দিয়েছেন কিনা সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর অভিন্ন হৃদয় বন্ধু বলে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন মোদী। এমনকী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় চেয়ে গলা ফাটিয়েছেন। সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে ফেলেছেন যে দেশটিকে তা হল নরেন্দ্র মোদীর ভারত।
মনে করা হচ্ছে, এই কারণেই ভাগবত কে বন্ধু আর কে শত্রু বাছাইয়ে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিলেন। বিভিন্ন সময়ে বিজেপি প্রধানমন্ত্রী কে বিশ্বগুরু বলে প্রচার করেছে। সেই তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে কটি রাষ্ট্রকে পাশে পেলেন তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে ঘরে-বাইরে। পরিস্থিতি আজ করে বিজেপি অবশ্য মোদীকে বিশ্বমিত্র বলেও প্রচার করে থাকে। পহেলগাম ইস্যুতে সেই তিনি ক'জন বন্ধুকে পাশে পেলেন তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই রাজনৈতিক মহলে