সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে দেশটির অভিষিক্ত যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করেন।

মহম্মদ বিন সলমন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করেন।
শেষ আপডেট: 18 September 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘কৌশলগত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে দেশটির অভিষিক্ত যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, কোনও একটি দেশ আক্রান্ত হলে, সেটাকে একইসঙ্গে দুই দেশের উপর ‘আগ্রাসন’ হিসেবে দেখবে রিয়াধ ও ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এর প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির 'প্রভাব' খতিয়ে দেখবে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এদিন জানান, ভারত সরকার দুই দেশের এই চুক্তির বিষয়ে অবগত। তিনি বলেন, আমরা সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের খবর দেখেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের মধ্যে এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল৷ সেই বিষয়ে সরকার সচেতন ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার উপর কী প্রভাব পড়বে বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর কী প্রভাব পড়বে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে ভারত।
দুই ইসলামি দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাও কয়েক দশকের পুরনো। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসলামাবাদ সৌদি সামরিক বাহিনীর ৮ হাজার ২০০র বেশি সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, দুই দেশ একাধিক যৌথ মহড়াও করেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চুক্তিটিকে ‘দীর্ঘদিনের আলোচনার’ ফসল আখ্যা দিয়ে সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, এটি সাম্প্রতিক কোনও সংঘাত বা দেশকে মাথায় রেখে করা নয়। চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র দিতে বাধ্য কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কূটনৈতিক ভাষায় তিনি বলেন, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেখানে সামরিক সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কিছুকাল আগেই কাশ্মীরকে ঘিরে চারদিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। রিয়াধ-ইসলামাবাদ প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়া দিল্লির জন্য তাই নতুন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি হলেও রিয়াধ নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার ব্যাপারে আগ্রহী। আর তাছাড়া কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সৌদি সফর করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করে এসেছেন। ওই কর্তার মতে, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে দৃঢ়। আমরা এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাবো।