গত সোমবার লালকেল্লার কাছে একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ড. উমর মহম্মদ।

উমর নবি এবং শাহিন সাইদ
শেষ আপডেট: 13 November 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা (New Delhi Red Fort) সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Car Blast) সূত্র মেলে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Al Falah University)। রাজধানী থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বিস্ফোরণের নকশা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত চার চিকিৎসককে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে গোটা তদন্ত।
গত সোমবার লালকেল্লার কাছে একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি (Hyundai i20) বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় (DNA Test) নিশ্চিত হওয়া গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ড. উমর মহম্মদ। তাঁর তিন সহযোগী ডা. মুজাম্মিল শাকিল, ডা. আদিল রাঠার এবং ডা. শহীদ সাঈদ — বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ নম্বর ঘর
৭০ একর জুড়ে বিস্তৃত আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর ভবনের (Buliding 17) একটি ঘরেই জঙ্গি কার্যকলাপের ছক তৈরি হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। ভবনের ১৩ নম্বর ঘরটি (Room 13) ছিল ডা. মুজাম্মিলের, যেটি গোপন বৈঠকের আসর হয়ে উঠেছিল। এখানেই দিল্লি (New Delhi) ও উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে অনুমান।
তদন্তে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি থেকে রাসায়নিক চুরি করে আনত জঙ্গি চক্র। ল্যাবটি মুজাম্মিলের ঘরের কাছেই অবস্থিত। ডা. উমর এবং ডা. শাহিন মিলে ওই রাসায়নিক সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা ফরিদাবাদের ধৌজ ও টাগা গ্রামে ভাড়া নেওয়া বাড়িতে মজুত রাখা হত। পুলিশের অভিযানে ইতিমধ্যেই ওই কক্ষ সিল করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস, পেন ড্রাইভ ও রাসায়নিকের নমুনা।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাব থেকে আনা রাসায়নিকের সঙ্গে অল্প পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অক্সিডাইজার মিশিয়ে বিস্ফোরক তৈরি করা হয়েছিল। এই সংমিশ্রণই ‘এএনএফও’ নামে পরিচিত, যা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও জ্বালানি তেলের মিশ্রণ। সূত্রের দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণে এই উপাদানই ব্যবহার করা হয়েছে। ফরিদাবাদে তল্লাশির সময় পুলিশ উদ্ধার করেছে প্রায় ২,০০০ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, যার মধ্যে ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটও রয়েছে।
তহবিল ও লক্ষ্য
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, চার চিকিৎসক মিলে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা জোগাড় করেছিলেন সন্ত্রাসী হামলার জন্য। লক্ষ্য ছিল দিল্লি জুড়ে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানো, বিশেষত ৬ ডিসেম্বর - অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনে। পুরো অর্থের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডা. উমরকে। পরে ওই টাকায় প্রায় ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার কেনা হয় গুরগাঁও, নুহ ও আশপাশের বাজার থেকে, যা বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি
আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, ওই চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনও যোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. ভূপিন্দর কৌর আনন্দ এক বিবৃতিতে বলেন - আমাদের দু'জন অধ্যাপককে তদন্তকারী সংস্থা আটক করেছে বলে খবর পেয়েছি। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত কার্যকলাপের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কিছু ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে।