তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ওই মসজিদে যাওয়ার পরই উমর মহম্মদ, ওরফে উমর উন নবি, বিস্ফোরণ ঘটান। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার পর রাজধানীর লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ধীর গতিতে চলা একটি সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে নবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Blast) আগে ওল্ড দিল্লির এক মসজিদে (Old Delhi Mosque) গেছিলেন অন্যতম মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক (Main Accused Doctor) উমর মহম্মদ। সিসিটিভি ফুটেজে (CCTV Footage) ধরা পড়েছে, বিস্ফোরণের দিন অর্থাৎ ১০ নভেম্বর, তিনি তুর্কমান গেট এলাকার ফয়েজ-ই-ইলাহী মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে ডানদিকে মাথা ঘোরাতেই ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়ে তাঁর মুখ।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ওই মসজিদে যাওয়ার পরই উমর মহম্মদ, ওরফে উমর উন নবি, বিস্ফোরণ (Blast) ঘটান। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার পর রাজধানীর লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ধীর গতিতে চলা একটি সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে (Hyundai i20) বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের পর আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে বিকট ধোঁয়া ও আগুন।
ইতিমধ্যে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওইদিন বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে উমর গাড়ি নিয়ে ঢোকেন লালকেল্লার (Red Fort) কাছে সোনেহরি মসজিদের পার্কিং লটে। প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন তিনি। বিকেল ৬টা ২৮ মিনিটে পার্কিং এলাকা থেকে বেরিয়ে যান। তদন্তে জানা গেছে, এই তিন ঘণ্টা তিনি একবারও গাড়ি থেকে নামেননি এবং গাড়ি ফাঁকা অবস্থায় রাখেননি।
সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণের দিন সকাল থেকে উমর রাজধানী জুড়ে নানা এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে পূর্ব, মধ্য, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে তাঁকে বাদরপুর টোলপ্লাজা পেরোতে দেখা যায়। এরপর তিনি রিং রোড হয়ে অশোক বিহারে থামেন, সেখানেই তিনি খানিকক্ষণ অবস্থান করে দুপুরের খাবার খান বলে অনুমান। তারপর ফের গাড়ি চালিয়ে যান কেন্দ্রীয় জেলার এক মসজিদে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণের আগের রাত তিনি হরিয়ানার মেওয়াট হয়ে ফিরোজপুর ঝিরকায় পৌঁছন। সেখান থেকে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে ধরে একটি ধাবায় রাত কাটান এবং গাড়িতেই ঘুমোন। পরদিন সকালে ফের রাজধানীতে ফিরে আসেন।
পুলিশের অনুমান, তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী ডা. মুজাম্মিল শাকিল এবং ডা. আদিল রাঠারের গ্রেফতারির পর থেকেই তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে তাঁর গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণের পেছনে থাকা উদ্দেশ্য এবং ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরণ নিয়ে তদন্ত চলছে। দিল্লি পুলিশ এবং এনআইএ যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।