আমদানি শুল্ক কমায় দেশীয় সংস্থাগুলির দ্রুত ও অনেক বেশি হারে কাঁচামালের দাম বাড়াতে পারবে না, মনে করছেন তাঁরা। তাঁদের আশা, সেক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধিতে কিছুটা লাগাম পড়বে। যদিও সেই অবস্থা বুঝতেই আরও কয়েকটি দিন অপেক্ষা করা জরুরি, দাবি তাঁদের।

প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 2 April 2026 20:15
ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে (Iran US Israel War) কাঁচামালের জোগান ও বিপুল দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ভারতের প্লাস্টিক শিল্পের উপরও। সাময়িক সুরাহার পথ খুঁজতে সেই সব কাঁচামাল – বিভিন্ন ধরনের পলিমারের (যেমন পলি প্রপলিন, পলি ইথিলিন, পিভিসি, পেট ইত্যাদি) উপর থেকে আমদানি শুল্ক তুলে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে তিন মাসের জন্য সেগুলির উপর শুল্ক শূন্যে নেমে এল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় থেকে শুরু করে খোলা বাজারে যে সব প্লাস্টিক পণ্যের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে, সেগুলি এখনই কমার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পরে চিনের (China) মত দেশের ভূমিকা, মত প্লাস্টিক শিল্পের।
সাময়িক এই হ্রাসের আর্জি জানিয়েছিল প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (Indian Plastic Federarion, বা আইপিএফ)। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তার সুফল বুঝতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে, দাবি তাদের । এর ফলে কাঁচামালের আমদানি কতটা বাড়ে, দেশীয় সংস্থাগুলির তৈরি কাঁচামালের দাম কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকে, তা বুঝতেই আগামী কয়েকদিনের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন তাঁরা।
আইপিএফ-এর প্রেসিডেন্ট অমিত আগরওয়াল ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কে কে সেকসরিয়া জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের অভিঘাত স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়েছে এ দেশের অনুসারী প্লাস্টিক শিল্পেও। একে তেল ও গ্যাসের জোগান কমেছে। সেই সঙ্গে চড়চড় করে বাড়ছে তাঁদের কাঁচামাল, পলিমারের দাম। বিভিন্ন পণ্যের প্রেক্ষিতে ভারত প্রয়োজনীয় পলিমারের ২০-৫০ শতাংশ আমদানি করে থাকে। বাকিটা এ দেশের শোধনাগার থেকে আসে। শুধু মার্চেই এ পর্যন্ত কাঁচামালের দাম গড়ে ৫০-৭০ শতাংশ বেড়েছে। আগের দামের ওঠাপড়া যদি মাসে এক কী দু’বার হত, এখন সপ্তাহে বারকয়েক করেও দাম বাড়ছে। এপ্রিলের প্রথম দিন থেকেই ফের একদফা দাম বেড়েছে, জানান তাঁরা।
বালতি, মগ, চেয়ার-টেবিল, জলের বোতল, জলের পাইপ, পিভিসি পাইপ থেকে সিমেন্ট-খাদ্যসশ্য, ওযুধ-ভোগ্যপণ্যের মতো বিভিন্ন পণ্যের যে প্লাস্টিক মোড়কের প্রয়োজন পড়ে, সবই তৈরি করে পেট্রোকেমিক্যালসের অনুসারী এই সব শিল্প সংস্থা। গোটা দেশে এমন মূলত ছোট ও মাঝারি সংস্থার সংখ্যা ৭০ হাজারের মতো। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫ হাজার। এ রাজ্যে কর্মসংস্থান হয় প্রায় ৫০ হাজারের।
অশোধিত তেল ও গ্যাস থেকে শোধনাগারে তাদের জন্য ওই কাঁচামাল তৈরি করে ইন্ডিয়ান অয়েল, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ়-সহ বিভিন্ন শোধনাগার. এ রাজ্যে ন্যাপথা থেকে ওই পলিমার তৈরি করে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস-ও।
আইপিএফের কর্তাদের মতে, আমদানি শুল্ক কমায় সুরাহার একটা দরজা খুলল ঠিকই। কিন্তু যুদ্ধের জেরে (West Asia Conflict) পলিমারের জোগানের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আমদানি বাড়ানোর পথও খুলতে হবে। যেমন পশ্চিম এশিয়ায় এমনিতেই কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে। উপরন্তু তাইল্যান্ড, যারা পলিমার রফতানি করে, তাঁদেরর নিজস্ব বাজারেও ঘাটতি রয়েছে। তাই চিন, সিঙ্গাপুরের মতো বিকল্প বাজার থেকে জোগান বাড়ানো যায় কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।
তবে আমদানি শুল্ক কমায় দেশীয় সংস্থাগুলির দ্রুত ও অনেক বেশি হারে কাঁচামালের দাম বাড়াতে পারবে না, মনে করছেন তাঁরা। তাঁদের আশা, সেক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধিতে কিছুটা লাগাম পড়বে। যদিও সেই অবস্থা বুঝতেই আরও কয়েকটি দিন অপেক্ষা করা জরুরি, দাবি তাঁদের।