দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২২বি এলাকায় অনুজের বাড়িতে আত্মীয় ও বন্ধুরা জড়ো হতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।

অনুজ বশিষ্ঠ
শেষ আপডেট: 7 March 2026 08:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে তখন বিয়ের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছিল। আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে আনন্দের আবহ, সামনে নতুন জীবনের সূচনা। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে একটি ফোন মুহূর্তের মধ্যে সেই আনন্দকে গভীর শোকে পরিণত করল। খবর এল, অসমে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় (Assam IAF Plane Crash) প্রাণ হারিয়েছেন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ বশিষ্ঠ।
পরিবারের এক আত্মীয় চন্দ্রপ্রকাশ জানান, ফোনের ওপার থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF Pilot) এক কর্মকর্তা দুর্ঘটনার খবরটি দেন। অসমের কার্বি আংলং জেলায় প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে (Su-30 MKI Accident)। সেই দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয়েছে অনুজ বশিষ্ঠের।
খবর পাওয়ার পরই পরিবারের কয়েকজন সদস্য তড়িঘড়ি অসমের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে এখনও পর্যন্ত পুরো সত্যটি জানানো হয়নি অনুজের মাকে। তাঁকে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানেন, খুব শিগগিরই তাঁকে বাস্তবের মুখোমুখি হতে হবে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২২বি এলাকায় অনুজের বাড়িতে আত্মীয় ও বন্ধুরা জড়ো হতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।
পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান, অনুজের মূল বাড়ি হরিয়ানার ভিওয়ানি জেলায়। তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার আনন্দপ্রকাশ, মা অনিতা দেবী এবং এক ছোট ভাই রয়েছেন। পরিবারে সবাই অনুজের বিয়ে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর হবু স্ত্রীও একজন বিমানচালক বলে জানা গেছে।
শৈশবের পড়াশোনা তিনি সম্পন্ন করেন গুরুগ্রামের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে। এরপর ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের জন্য পরিচিত ছিলেন বলে জানান পরিবারের ঘনিষ্ঠরা।
বৃহস্পতিবার জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ উড়ানে বেরিয়েছিল একটি যুদ্ধবিমান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, অসমের কার্বি আংলং জেলায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে। ওই দুর্ঘটনাতেই স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ বশিষ্ঠ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশ দুরাগকর প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে বায়ুসেনা।
এই দুর্ঘটনায় দুই তরুণ বায়ুসেনা অফিসারের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাও ইন্দরজিৎ সিং এবং হরিয়ানার সামরিক ও আধাসামরিক কল্যাণমন্ত্রী রাও নরবীর সিং।
তাঁদের বক্তব্য, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই সাহসী অফিসারদের আত্মত্যাগ কখনও ভুলবে না দেশ। দায়িত্ব, সাহস এবং দেশপ্রেমের যে উদাহরণ তাঁরা রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।