পাকিস্তান ও চিনের (Pakistan-China) ক্রমবর্ধমান আকাশশক্তিকে টেক্কা দিতে এ বার রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টিলথ’ ফাইটার জেট ‘সুখই-৫৭’ (5th Generation Russian Fighter Jets) কেনার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে ভারত (India)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, আলোচনার জল গড়াতে পারে ৪০টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাব পর্যন্ত।

‘সুখই-৫৭’
শেষ আপডেট: 24 February 2026 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশযুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)। গত বছরের মে মাসে পহেলগাম জঙ্গি হামলার (Pahelgam Attack) বদলা নিতে যখন সীমান্তে গর্জে উঠেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে আগামীর যুদ্ধ হবে প্রযুক্তির। পাকিস্তান ও চিনের (Pakistan-China) ক্রমবর্ধমান আকাশশক্তিকে টেক্কা দিতে এ বার রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টিলথ’ ফাইটার জেট ‘সুখই-৫৭’ (5th Generation Russian Fighter Jets) কেনার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে ভারত (India)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, আলোচনার জল গড়াতে পারে ৪০টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাব পর্যন্ত।
কেন সুখই-৫৭?
বিশ্লেষকদের মতে, এখনকার যুদ্ধ কেবল মারণাস্ত্রের লড়াই নয়, বরং শত্রু আমায় দেখতে পাচ্ছে কি না, সেটাই সবথেকে বড় ফ্যাক্টর। এই ‘লো অবজার্ভবিলিটি’ বা রাডারের নজর এড়িয়ে যাওয়ার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে সুখই-৫৭-এর। এর বডি বা এয়ারফ্রেম তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের রাডার-শোষক উপাদান দিয়ে।
এ ছাড়াও এই বিমানে রয়েছে
সুখই কর্তৃপক্ষের দাবি, রাডার ছাড়াও ইনফ্রারেড বা সাধারণ চোখেও এই বিমানকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এর জ্বালানি ট্যাঙ্কটিও তৈরি করা হয়েছে বিস্ফোরণ-রোধী প্রযুক্তিতে, যা যুদ্ধের ময়দানে এর টিকে থাকার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
চিন ও পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ
ভারতের এই সক্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। পাকিস্তানের পরম বন্ধু চিন ইতিমধ্যেই তাদের পঞ্চম প্রজন্মের ‘জে-২০’ স্টিলথ ফাইটার তৈরি করে ফেলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীঘ্রই সেই প্রযুক্তি ইসলামাবাদের হাতে চলে আসবে। এই অবস্থায় নিজেদের পাল্লা ভারী রাখতে ভারতের হাতে অত্যাধুনিক জেটের বিকল্প নেই।
অন্য দিকে, ভারত নিজেই পঞ্চম প্রজন্মের নিজস্ব যুদ্ধবিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA) তৈরির কাজ চালাচ্ছে। তবে সেটির প্রথম উড্ডয়ন ২০২৮-২৯ সালের আগে সম্ভব নয় এবং বায়ুসেনার হাতে পৌঁছাতে ২০৩৫ গড়িয়ে যেতে পারে। তত দিন পর্যন্ত আকাশের আধিপত্য বজায় রাখতেই রাশিয়ার এই ‘অদৃশ্য’ যুদ্ধবিমানের শরণাপন্ন হতে চাইছে ভারত।
আপাতত দিল্লির প্রতিরক্ষা অলিন্দে সুখই-৫৭ নিয়ে এই গুঞ্জন যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে এশিয়ার আকাশসীমায় ভারতের শক্তি যে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।