প্রায় ৩০টি এক আসনের তেজস যুদ্ধবিমান আপাতত গ্রাউন্ডেড রাখা হয়েছে। বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে উড়তে দেওয়া হবে না।

তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট
শেষ আপডেট: 23 February 2026 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি মাসের শুরুতেই একটি তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট দুর্ঘটনার (Tejas fighter jet crash India) পর নিরাপত্তার স্বার্থে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় বায়ুসেনা। গোটা বহরকেই 'গ্রাউন্ড' করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Indian Air Force grounds Tejas fleet)। ফলে ভারতের কাছে থাকা ৩০টি এক আসন বিশিষ্ট তেজস যুদ্ধবিমানকে আপাতত উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে বিস্তৃত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং তদন্ত (LCA technical glitch investigation)।
সূত্রের খবর, একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ার বেসের অপারেশনাল এলাকায় প্রশিক্ষণ মিশন শেষ করে অবতরণের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক মূল্যায়নে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ইঙ্গিত (LCA technical glitch) মিলেছে। বিশেষ করে বিমানের অনবোর্ড সিস্টেমের কোনও অংশে ব্যর্থতা ঘটেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, প্রায় ৩০টি এক আসনের তেজস যুদ্ধবিমান আপাতত গ্রাউন্ডেড রাখা হয়েছে। বিস্তারিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে উড়তে দেওয়া হবে না।
দুর্ঘটনায় বিমানের কাঠামোগত ক্ষতি এতটাই গুরুতর যে সেটিকে বাতিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে পেরেছেন এবং সময় থাকতেই গুরুতর আঘাত এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এই নিয়ে বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তৃতীয়বার কোনও তেজস যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হল।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের মার্চ মাসে জয়সলমীরের কাছে। ফায়ারপাওয়ার প্রদর্শন শেষে ফেরার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। তখনও পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুবাই-এ একটি এয়ার শো চলাকালীন। সেই ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ডেলিভারি হতে প্রায় দু’বছর দেরির মাঝেই সর্বেশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাই এদিকে তেজস Mk1A প্রকল্প নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যদিও বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই ১৮০টি Mk1A যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। Mk1A হল বর্তমানে ব্যবহৃত তেজসের আপগ্রেডেড সংস্করণ।
এখনও পর্যন্ত সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা নিয়ে বায়ুসেনার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে গোটা বহর গ্রাউন্ডেড করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির গুরুত্বই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।