পুরভেশের বাবা রবীন্দ্র দুরাগকর জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁদের পরিবার জানতই না যে ছেলে ওই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার প্রায় পনেরো দিন পরে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।

পুরভেশ দুরাগকর
শেষ আপডেট: 6 March 2026 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের কার্বি আংলং জেলায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় (Su-30 MKI Accident) মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশ দুরাগকরের (IAF Pilot Death)। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পরে সামনে এসেছে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। গত বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের (Operation Sindoor) অংশ ছিলেন তিনি। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার (Jammu Kashmir Pahalgam Attack) জবাব দিতে ওই সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ভারত।
পুরভেশের বাবা রবীন্দ্র দুরাগকর জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁদের পরিবার জানতই না যে ছেলে ওই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার প্রায় পনেরো দিন পরে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। সেই সময় পুরভেশের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগও ছিল না। তাঁর মোবাইল ফোনও তখন তাঁর কাছে ছিল না বলে জানিয়েছেন বাবা।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা (Jammu Kashmir Pahalgam Attack) হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলার দায় নেয় ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামে একটি সংগঠন, যাকে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন বলে মনে করা হয়। অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। সেখানে শতাধিক জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর পর পাল্টা হিসেবে পাকিস্তানের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করে। পরে ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি বিমানঘাঁটিতেও আঘাত হানে। শেষ পর্যন্ত ১০ মে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়।
এই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাণ হারালেন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ওই তরুণ বায়ুসেনা অফিসার। দুর্ঘটনার আগের দিনই ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্র দুরাগকর।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশ দুরাগকর এবং স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ একটি প্রশিক্ষণ উড়ানে বেরিয়েছিলেন। জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে উড়ান নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই যুদ্ধবিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, কার্বি আংলং এলাকায় ভেঙে পড়েছে বিমানটি। সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের পর থেকেই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সূত্র।
ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার। রবীন্দ্র দুরাগকর বলেন, ভারতীয় বায়ুসেনার অংশ হতে পেরে তাঁর ছেলে ভীষণ গর্বিত ছিল। মাঝে মাঝেই যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ও তার গতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলত। সহকর্মীদের প্রতিও তার গভীর শ্রদ্ধা ছিল।
অসমের তেজপুরে মূলত কর্মরত ছিলেন পুরভেশ। তবে তেজপুরের রানওয়েতে মেরামতির কাজ চলায় তিনি জোরহাট থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাত্র চার বছরের কর্মজীবনেই দেশের জন্য প্রাণ দিলেন তিনি।
দশ দিন আগেই পরিবারের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নাগপুরে বাড়িতে গিয়েছিলেন পুরভেশ। নাগপুরেই তাঁর পড়াশোনা। অবিবাহিত ওই তরুণ অফিসারের পরিবারে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা এবং আমেরিকায় বসবাসকারী এক দিদি। তাঁর আত্মত্যাগকে দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা।