Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহেরথাকবে না লাল কার্ড, খেলা ৫০ মিনিটের! ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করতে ছকভাঙা প্রস্তাব নাপোলি-প্রধানেরনতুন সূর্যোদয়! নীতীশের ছেড়ে যাওয়া মসনদে সম্রাট চৌধুরী, প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পেল বিহারমাত্র ৫০০ টাকার পরীক্ষা বাঁচাবে কয়েক লাখের খরচ, কেন নিয়মিত লিভারের চেকআপ জরুরি?অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ! কমিশনের ‘হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশ’ দেখাল তৃণমূল

Delhi biker death: বিবাহবার্ষিকীর কেক পড়ে রইল, রাতভর খুঁজে সকালে কমলের দেহ পেলেন বাবা-মা

পুলিশ ঠিকাদার ও দিল্লি জল বোর্ডের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে খুনের সন্দেহের ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। 

Delhi biker death: বিবাহবার্ষিকীর কেক পড়ে রইল, রাতভর খুঁজে সকালে কমলের দেহ পেলেন বাবা-মা

ছবি - গুগল

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 7 February 2026 12:16

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যরাত পেরিয়ে গিয়েছে। পশ্চিম দিল্লির বাড়িটির ডাইনিং টেবিলে রাখা কেকটি অক্ষত পড়ে রইল। মোমবাতিগুলো জ্বলল না। বিবাহবার্ষিকীর সারারাত শহরের রাস্তায় ঘুরে ছেলেকে খুঁজে বেড়ালেন কমল ধ্যানির বাবা-মা। ছেলের একটা খবর পাওয়ার জন্য যখন একের পর এক থানায় তাঁরা হন্যে হয়ে খুঁজছেন, তখনও জানতেন না, ছেলে আর কোনওদিনই বাড়ি ফিরবে না (Delhi biker death)।

২৫ বছরের কামাল ধ্যানি একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন। শুক্রবার রাত ১২টা ৫০ নাগাদ তিনি তাঁর যমজ ভাই করণকে ফোন করেন। জানান ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন। মাকে রুটি বানানোর কথাও বলেন তিনি। “ও বলছিল বাড়ির পথেই আছে। সবাই মিলে মধ্যরাতে কেক কাটার অপেক্ষায় ছিলাম। তার বদলে সারারাত ওকে খুঁজে বেড়ালাম,” বলতে বলতে গলা কাঁপতে থাকে করণের (Delhi accident)।

কিন্তু আধ ঘণ্টা কেটে গেলেও কামাল বাড়ি ফেরেননি। ফোনে আর যোগাযোগও করা যাচ্ছিল না। উদ্বেগ দ্রুত আতঙ্কে পরিণত হয়। পরিবারের লোকজন রাতেই বেরিয়ে পড়েন। রোহিণীতে কমলের অফিসেও যাওয়া হয়। ম্যানেজার জানান, কমল অনেক আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে গেছেন।

ম্যানেজারও তাঁদের সঙ্গে খোঁজে যোগ দেন। একসঙ্গে তাঁরা ঘুরে বেড়ান এক থানার পর আরেক থানায়, ফাঁকা রাস্তায় রাস্তায়—কোথাও যদি মোটরবাইকটা চোখে পড়ে, কোথাও যদি ফোনটা বেজে ওঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। কোনও উত্তর মেলে না। ভোরের দিকে পুলিশের ফোন আসে কমল আর নেই।

জনকপুরিতে দিল্লি জল বোর্ডের (DJB) নর্দমা পাইপলাইন সংস্কার প্রকল্পের জন্য খোঁড়া প্রায় ১৫ ফুট গভীর একটি গর্তের ভিতর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। মাথায় তখনও হেলমেট পরা ছিল। কাদায় মাখা অবস্থায় পাশে পড়ে ছিল তাঁর মোটরবাইক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাড়ি ফেরার পথে বাইক চালাতে চালাতেই তিনি সেই খোলা গর্তে পড়ে যান।

যে বাইকটি তিনি চালাচ্ছিলেন, সেটি তাঁর জন্মদিনে নিজের জমানো টাকা দিয়ে কেনা উপহার। “ও বাইকটা ভীষণ ভালবাসত,” বললেন ছোটবেলার বন্ধু ময়াঙ্ক। “২০২৪ সালে কিনেছিল। সব জায়গায় ওটাই নিয়ে যেত। খুব সাদাসিধে ছেলে ছিল। পরিশ্রমী। কারও সঙ্গে ঝগড়া করত না। নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চেয়েছিল।”

কমলের পরিবারের কাছে খবরটা নেমে আসে ঝড়ের মতো। “মাকে আমরা অনেক পরে বলেছি,” জানালেন করণ। “হঠাৎ শুনলে মা সহ্য করতে পারত না। বাবা সারা রাত খুঁজে বেড়িয়েছেন। সকালে তাঁকেই ছেলের দেহ ব্যাগে মোড়া অবস্থায় দেখতে হয়েছে।”

যে দিনটি ছিল বিবাহবার্ষিকীর আনন্দে ভরার কথা, সেটাই পরিণত হল তাঁদের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার দিনে।

‘চারদিকে অন্ধকার, কোনও ব্যারিকেড নেই’- কী বলছেন স্থানীয়রা?

জনকপুরির ওই এলাকার বাসিন্দা ও দোকানদারদের দাবি, দুর্ঘটনাটি প্রায় অবশ্যম্ভাবী ছিল। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তা খোঁড়া হলেও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

একটি ক্যাফের ম্যানেজার সন্দীপ জানান, “ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার কোনও স্ট্রিটলাইট নেই। শুধু আবাসিক গলির কাছে একটা আলো।” তিনি আরও বলেন, “সিগন্যালের কাছে কিছু ব্যারিকেড ছিল, কিন্তু গর্তের পাশে কিছুই ছিল না। না ব্যারিকেড, না সেফটি নেট, না সবুজ জালি।”

স্থানীয় বাসিন্দা উমার কথায়, “একবার রাস্তার এক দিক বন্ধ, আবার অন্য দিক। মানুষ সরু ফাঁক দিয়ে চলাচল করছে। দু’মাস ধরে ঠিকঠাক রাস্তা নেই।”

রিতু সালুজা জানান, দুর্ঘটনার ঠিক আগের দিনই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। “সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও ব্যারিকেড ছিল না। এটাই আমাদের ব্লকের একমাত্র রাস্তা,” বলেন তিনি। তাঁর স্বামী যোগেন্দ্র সালুজা বলেন, “শিশু আর বয়স্কদের চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আগের গর্তগুলো ঘেরা ছিল, এটা ছিল না।”

অনেকেই জানান, অসমতল রাস্তা, গর্ত আর আলো না থাকায় রাতে বাইক চালানো কার্যত বিপজ্জনক।

নিঃশব্দ স্বপ্নের জীবন

কৈলাশপুরিতে বাবা-মা ও ভাইদের সঙ্গে থাকতেন কামাল। বাবা ও দাদা পুরোহিত। যমজ ভাই করণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মা গৃহবধূ। বন্ধু ও সহকর্মীদের মতে, কামাল ছিলেন শান্ত, পরিশ্রমী এবং ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রশ্ন, দাবি ও দায়বদ্ধতা

পরিবার দাবি করেছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হোক। “আমরা জানতে চাই কী হয়েছিল,” বলেন করণ। “আর চাই না এটা আর কারও সঙ্গে হোক।” তাঁদের অভিযোগ, দিল্লি জল বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি রয়েছে।

পুলিশ ঠিকাদার ও দিল্লি জল বোর্ডের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে খুনের সন্দেহের ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। তিনজন ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

আপ (AAP)-এর দিল্লি জয়েন্ট সেক্রেটারি সাক্ষী বনশল জানান, জনকপুরি–উত্তম নগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার অবস্থা খারাপ। “এখানে একাধিক স্কুল আছে। আলো, ব্যারিকেড না থাকায় সমস্যা চরমে,” বলেন তিনি।


```