বিহারে যে পাঁচটি আসনে সোমবার ভোট গ্রহণ করা হবে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar), বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Navin), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা রামনাথ ঠাকুর এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শীবেস কুমার।

রাজ্যসভা নির্বাচন
শেষ আপডেট: 16 March 2026 09:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাজ্যসভার (Rajya Sabha/Upper House election) ১১টি আসনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে। এই আসন গুলি রয়েছে বিহার (Bihar), ওড়িশা (Odisha) এবং হরিয়ানায় (Haryana)।
এই দফায় রাজ্যসভার ৩৭ আসনে ভোট নেওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ৫ আসন-সহ মোট ২৬টিতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। রাজ্যসভায় বর্তমানে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১৩৪টি রয়েছে এনডিএ-র (NDA) দখলে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দখলে আছে ৮০টি আসন। রাজ্যসভার এই পর্বের নির্বাচন শেষে এনডিএ উচ্চকক্ষে আরও স্বস্তিতে থাকবে।
বিহারে যে পাঁচটি আসনে সোমবার ভোট গ্রহণ করা হবে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar), বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Navin), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা রামনাথ ঠাকুর এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শীবেস কুমার। পঞ্চম আসনটিতে তে লড়াই করছে প্রধান বিরোধীদল আরজেডি (RJD)।
যদিও ওই আসনে লালু প্রসাদের (Lalu Prasad Yadav) দলের জয় নির্ভর করছে আসাউদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএমের (AIMIM) উপর। ওই দলের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন পেতে আরজেডির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব রবিবার এআইএমআইএমের রাজ্য সভাপতি আখতারুল ইমামের সঙ্গে দেখা করেন। পরে এআইএমআইএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিধায়কেরা আরজেডি প্রার্থীকে সমর্থন করবে। লালু প্রসাদের দলের প্রার্থী হলেন অমরেন্দ্র ধারী সিং।
বিহারের ভোটে (Bihar Election) আরও একটি বিষয়ে কৌতূহল রয়েছে। শাসক জোটের একাংশের দাবি আরজেডিসহ বিরোধী শিবিরের বহু বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে ভোট দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তা অবশ্য গোপন থাকবে না। রাজ্যসভার নির্বাচনে নিয়ম হল ভোটদানের পর প্রার্থীর এজেন্টকে ব্যালট দেখিয়ে তারপর তা বাক্সে ভরতে হয়।
অন্যদিকে, ওড়িশার চারটি আসনে নির্বাচন নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যে তাদের একজন বিধায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরিয়েছে দল বিরোধী আচরণের অভিযোগে। অন্যদিকে শাসক দল বিজেপি তাদের বিধায়কদের বন্দর শহর পারাদ্বীপের হোটেলে রেখেছে। সোমবার সকালে সেখান থেকে পুলিশ প্রহরায় বাসে করে বিধায়কদের বিধানসভায় নিয়ে আসা হবে।
ওড়িশায় রাজ্যসভার ভোটকে কেন্দ্র করে টাকা পয়সা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। বেঙ্গালুরু পুলিশ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে একটি হোটেলে টাকা পয়সা লেনদেনের সময়। প্রাথমিক তদন্তে কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক সরকারের পুলিশ বলেছে, ধৃতরা বিজেপির হয়ে রাজ্যসভার ভোটে টাকা দিয়ে ভোট কেনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে তারা কয়েকটি ব্ল্যাংক চেক উদ্ধার করেছে।
এদিকে ওডিশা বিধানসভায় (Odisha Assembly) কংগ্রেসের উপনেতা অশোক কুমার দাস ভুবনেশ্বরে একটি থানায় অজ্ঞাত পরিচিত চারজনের বিরুদ্ধে রাজ্যসভার নির্বাচনে টাকা পয়সা ছড়ানোর অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেছেন রাজ্যসভা নির্বাচনে বিধায়ক কিনতে কোটি কোটি টাকা বিলি করা হচ্ছে।
হরিয়ানায় রাজ্যসভার দুটি আসনের ভোট নিয়েও তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেখানেও শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরই তাদের বিধায়কদের হোটেলে বন্দি করে রেখেছে। সোমবার সকাল ১০ টায় তাদের বিধানসভায় হাজির করানো হবে।