কার্তিক মাসে শুক্লপক্ষের এই একাদশীতে দেশের সমস্ত লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাধাকৃষ্ণ কিংবা বেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দিরে ব্যাপক ভিড় হয়।

কার্তিক মাসের এই দিনে ভগবান বিষ্ণু চারমাসের যোগনিদ্রা ভঙ্গ করে আবার পালনকর্তার ভূমিকায় কাজে নেমে পড়েন।
শেষ আপডেট: 1 November 2025 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামের বেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দিরে শনিবার দেবোত্থানী একাদশী উপলক্ষে ভক্তদের ভিড়ে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে। কার্তিক মাসে শুক্লপক্ষের এই একাদশীতে দেশের সমস্ত লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাধাকৃষ্ণ কিংবা বেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দিরে ব্যাপক ভিড় হয়। পুরাণ ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী কার্তিক মাসের এই দিনে ভগবান বিষ্ণু চারমাসের যোগনিদ্রা ভঙ্গ করে আবার পালনকর্তার ভূমিকায় কাজে নেমে পড়েন। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসংখ্য ব্যাখ্যা ও অগুনতি পৌরাণিক কাহিনি।
দেবশয়নী একাদশীতে যোগনিদ্রায় যান পালনকর্তা ভগবান বিষ্ণু। চার মাস যোগনিদ্রায় থাকেন তিনি। সেই যোগনিদ্রা ভঙ্গ হয় দেব উত্থানী একাদশীতে। এই দিন ফের যোগনিদ্রা ভেঙে ওঠেন ভগবান। ফের বিশ্ব সংসার চালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। চার মাসের এই সময়কালকে চতুর্মাস বলে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, বিষ্ণু যোগনিদ্রায় থাকাকালীন চতুর্মাসে কোনও শুভ কাজ করতে নেই। এই সময়ে বিয়ে, বাগদান, পৈতে বা অন্য কোনও শুভকাজ হয় না।
এবার পঞ্জিকা মতে, দেবোত্থানী একাদশী পড়েছে ১ নভেম্বর সকাল ৯টা ১১ মিনিট থেকে। শেষ হবে আগামিকাল, ২ নভেম্বর সকাল ৭টা ৩১ মিনিটে। উপবাস ভঙ্গের সময় একাদশীর শেষে। সেরা মুহূর্ত ছিল এদিন সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। সে কারণেই গতকাল রাত থেকে ভিড় জমেছিল ভক্তদের।
পুরাণ অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু শঙ্খাসুরকে বধ করেছিলেন এবং তারপর তিনি চার মাসের জন্য যোগনিদ্রায় ছিলেন। চার মাস পর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর ব্রাহ্ম মুহূর্তে শাঁখ বাজিয়ে তাঁর নিদ্রাভঙ্গ করা হয়।এবং এই দিন থেকে সকল ধরণের শুভ কাজও শুরু হয়। তাই, এই একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ পূজা করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই দিনে, ভগবান বিষ্ণুর শালগ্রাম অবতার এবং মা তুলসীর বিবাহ হয়। তুলসী দেবী রাজা কুশধ্বজের কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তুলসী দেবী শ্রীকৃষ্ণের একজন মহান ভক্ত ছিলেন। পরে তিনি রাক্ষসদের রাজা জলন্ধরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জলে জন্মগ্রহণ করার কারণে, জলন্ধর সমুদ্রের উপর তাঁর অধিকার দাবি করেন এবং সমুদ্র মন্থন করা ১৪টি ধন দাবি করেন। তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং দেবতাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে ওঠেন। আরও বেশি করে তুলসী দেবীর পবিত্রতার কারণে, কেউ তাঁকে পরাজিত করতে সক্ষম হননি। তাঁর পবিত্রতা এতটাই দৃঢ় ছিল যে, ভগবান শিবও যুদ্ধে জলন্ধরকে পরাজিত করতে পারেননি এবং সমস্ত দেবতা সাহায্যের জন্য ভগবান বিষ্ণুর কাছে যান।
জলন্ধরকে হত্যা করার শেষ উপায় হিসেবে, ভগবান বিষ্ণু বৃন্দা বা তুলসীকে আকর্ষণ করার জন্য তাঁর স্বামীর রূপ ধারণ করে আসেন। তুলসীদেবী যখন ভগবান বিষ্ণুকে স্বাগত জানান, যিনি তাঁর স্বামীর রূপ ধারণ করেছিলেন, তখন তাঁর সতীত্ব ক্ষণিকের জন্য ভেঙে যায়, দেবতারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জলন্ধর দৈত্যকে হত্যা করে। বৃন্দা দেবী এই কথা জানার পর ভগবান বিষ্ণুকে কালো পাথরে পরিণত হওয়ার অভিশাপ দেন। তাঁর শুদ্ধ ভক্তের কথা মেনে ভগবান কৃষ্ণ গণ্ডকী নদীতে শালিগ্রাম শিলা রূপে আবির্ভূত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন যে, সকলের কল্যাণের জন্য, তুলসী দেবী এমন একটি গাছের রূপ ধারণ করবেন, যা তাঁর ভক্তদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক হবে। তিনি জানান, তিনি তুলসী পাতা ছাড়া কখনও কোনও নৈবেদ্য গ্রহণ করবেন না। তিনি তুলসী দেবীকে এই আশীর্বাদও দিয়েছিলেন যে, তিনি বৈকুণ্ঠে তাঁর সহধর্মিণী হিসেবে চিরকাল তাঁর সঙ্গে বাস করবেন। তাই প্রতি বছর দ্বাদশী তিথিতে তুলসী বিবাহ পালিত হয়।
এদিনও হাজার হাজার ভক্ত বেঙ্কটেশ্বর স্বামী বা নারায়ণ মন্দিরে এসে তাঁদের মনোস্কামনা পূরণের জন্য এসেছিলেন। কিন্তু, অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ এবং শুভ মুহরত পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদপিষ্টের মতো দুর্ঘটনা ঘটে যায়।